দেশের সংবাদপত্রগুলোর লড়াই মূলত বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও বিজাতীয় সংস্কৃতির পক্ষের শক্তির মধ্যে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, দৈনিক সংগ্রাম, আমার দেশ, নয়া দিগন্ত এই পত্রিকাগুলো বাংলাদেশী সংস্কৃতির জন্য লড়াই করে। আর অন্যান্য পত্রিকাগুলো বিজাতীয় সংস্কৃতির জন্য লড়াই করে। সংস্কৃতির লড়াইয়ে যদি আমরা জিততে না পারি, তবে রাজনৈতিক লড়াইয়েও আমাদের পরাজয় নিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার এসেও যেন বর্তমানের মতো সংবাদপত্রের স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখে তিনি সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গতকাল শনিবার দৈনিক সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সংগ্রামের সাথে আমার দেশ পত্রিকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লি.-এর ভাইস চেয়ারম্যান মো: মোবারক হোসাইন, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, দৈনিক আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম, দৈনিক সংগ্রামের বার্তা সম্পাদক সামছুল আরেফীন, চীফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন শোয়েবসহ দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের দুঃসহ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, “যখন আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হলো, তখন সংগ্রামের প্রেস থেকেই পত্রিকাটি ছাপা হয়েছিল। এমনকি এই অপরাধে পুলিশ রেইড দিয়ে আমার ৭৫ বছর বয়সি মা এবং সংগ্রামের তৎকালীন সম্পাদক আসাদ ভাইয়ের নামে মামলা দিয়েছিল। তাদের দুজনকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গিয়ে জামিন নিতে হয়েছিল।"

তিনি আরও জানান, জুলাই বিপ্লবের পর যখন আবারও আমার দেশ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখনো দৈনিক সংগ্রাম সবার আগে এগিয়ে আসে এবং তাদের প্রেসে পত্রিকা ছাপার সুযোগ করে দেয়।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে। গত এক বছর আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যে ইতিবাচক পরিবেশ পেয়েছি, আগামী সরকারও যেন তা বজায় রাখে। সংবাদপত্রকে যেন কোনোভাবেই দলীয় চশমায় বিচার করা না হয়।

দেশের বর্তমান মিডিয়া জগতকে দুই ভাগে বিভক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার দেশ, সংগ্রাম এবং নয়া দিগন্তের মতো গুটিকতক পত্রিকা দেশীয় সংস্কৃতির পক্ষে লড়াই করছে। বিপরীতে অনেক শক্তিশালী মাধ্যম বিজাতীয় সংস্কৃতির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা কোনো চাপের মুখে আপস করিনি এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রকৃত দায়িত্ব পালন করে যাব। সংগ্রামের সাথে আমাদের এই লড়াইয়ের সম্পর্ক ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।”

অনুষ্ঠানে তিনি দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদকসহ সকল সাংবাদিক ও কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানান এবং একটি মুক্ত পরিবেশে পত্রিকাটির অগ্রযাত্রা কামনা করেন।