ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র তান্ডবে উপকূলের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ. এইচ. এম. হামিদুর রহমান আযাদ গত বৃহস্পতিবার রাতে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র ভয়াল প্রভাবে মহেশখালী-কুতুবদিয়া সহ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে যে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তাতে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, মর্মাহত এবং শোকাহত। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে মহেশখালী উপজেলার কুতুবজুম ইউনিয়নের ঘটিভাংগা গ্রামে দেওয়াল ধসে একজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এই শোক সইবার শক্তি দান করেন।

তিনি বলেন, ছোট মহেশখালীর মুদিরছড়ার রাখাইন পল্লীতে প্রবল জোয়ারের পানিতে জনপদ তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, কুতুবদিয়ায় লবণবাহী একটি ট্রলার ডুবে ৮ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যা আমাদের হৃদয় বিদারিত করেছে। কুতুবদিয়ার একাধিক স্থানে বাঁধ ভেঙে কিংবা ভঙ্গুর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে লোকালয় ও মাছের প্রজেক্ট প্লাবিত হয়েছে। ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতেও জোয়ারের ভয়াবহতা দ্রুত অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে, আমি উপকূলবাসীকে অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও মনোবল দৃঢ় মহান আল্লাহ তায়ালার উপর তায়াক্কুল রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরকে তিনি আহ্বান জানান, এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। একইসাথে অনতিবিলম্বে বাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার প্রতিটি ইউনিট ও শাখার প্রতিটি সদস্যকে আহ্বান জানাচ্ছি-এই দুঃসময়ে আপনাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করুন, মানুষের পাশে দাঁড়ান, মহান আল্লাহ এর প্রতি দোয়ার হাত তুলুন এবং সাধ্যমতো সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন।