বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতার সংকটে আবদাল আহমদকে এক আলোকস্তম্ভ আখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় আজ একটি বড় সংকট হলো অভিজ্ঞতার ঘাটতি। দেশের বেশিরভাগ নিউজরুমে কর্মরত সাংবাদিকদের গড় বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অনেকে আরো কম বয়সেই কঠিন ও জটিল সংবাদ কাভার করতে নেমে পড়েন। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা অনেক সময় ঘটনাকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে দেখে ফেলে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে ডিআরইউ বিশেষ সম্মাননা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কৃত প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রেস সচিব বলেন, একজন তরুণ সাংবাদিক হঠাৎ একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ দেখলেই মনে করতে পারেÑদেশে আর কিছুই বাকি নেই, সবই ধ্বংসের পথে। কারণ অতীতের ঘটনাবলি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সমাজের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথÑএসব অভিজ্ঞতা তাদের এখনো তৈরি হয়নি। তাদের কপি এডিট করতে যারা থাকেন, তাদেরও বয়স প্রায় একই রকম। ফলে এক ধরনের সমষ্টিগত উত্তেজনার ভেতর দিয়ে সংবাদ তৈরি হয়, যেখানে খবর থাকে, কিন্তু ভারসাম্য ও বিচক্ষণতা অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে। এই সমস্যার দায় স্বীকার করতেই হবে এবং এখানেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন আবদাল ভাই।
সম্মাননা ও পুরস্কৃত করার জন্য রিপোর্টার্স ইউনিটিকে ধন্যবাদ জানান আবদাল আহমদ। তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে এমন একজন প্রধান অতিথি উপস্থিত—শফিকুল আলম—যিনি এএফপি’র মাধ্যমে বহু আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত প্রতিবেদন উপহার দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের তথ্য বিশ্বে প্রথম প্রচারিত হয় তার রিপোর্টেÑএটিও ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুঃসময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ‘আমার দেশ’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘসময় রিপোর্টিং করতে পারিনি। তবে থেমে থাকিনিÑবিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেছি ও শিশু-কিশোরদের জন্য মাসিক প্রকাশ করেছি। সেই সময় ৪০টির বেশি বই প্রকাশ করেছি, কিছু বই বহুবার পুনর্মুদ্রিতও হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, ডিআরইউ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুলতান মাহমুদ বাদল, সাংবাদিক মোস্তফা কামালসহ সংগঠনটির সিনিয়র সাংবাদিকরা।