ইরানে হামলা চালানোর জন্য কাউকে নিজেদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপ প্রসঙ্গে সৌদী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা ঐ অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এদিকে মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধস্বরূপ ওয়াশিংটনের বিবেচনায় ৬টি সামরিক পথের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কাতারের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাজ্য। রয়টার্স, সিবিএস, আল-আরাবিয়া, এএফপি, আল-জাজিরা।
বিক্ষোভকারীদের দমন করতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করেছে ইরান, এমন অভিযোগ এনে দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর জন্য কাউকে নিজেদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না তারা।
সৌদির সরকার ও সেনাবাহিনীর অন্তত দুটি সূত্র একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে গত বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রটি বলেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হবে না সৌদি আরব। বিষয়টি তেহরানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সৌদির আকাশসীমা এবং ভূমিও ব্যবহার করা যাবে না।’
সরকার সংশ্লিষ্ট অপর সূত্রটিও এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, ইরানকে এ ব্যাপারে বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।
ইরানের এক কর্মকর্তা বুধবার বার্তাসংস্থা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এমন হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ বিভিন্ন দেশে থাকা তাদের ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে।
কাতারের দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনীদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার পর আল-উদেইদ ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুঁড়েছিল ইরান।
প্রসঙ্গত, ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যার’ অভিযোগ তুলে দেশটিতে ক্রমাগত হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরানে বিক্ষোভ এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে ইরানের প্রধান শহরগুলো। তবে মার্কিন হামলার হুমকি এখনো জারি আছে।
সৌদী-ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপে, কথা হলো যে বিষয়ে
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে জরুরি কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। আজ বৃহস্পতিবার রিয়াদ থেকে প্রকাশিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবরের মাঝে এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রিন্স ফয়সাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে তারা অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইরানের পাশাপাশি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এবং কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল-থানির সাথেও পৃথকভাবে কথা বলেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে বলে খবর ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশেষ করে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য সরিয়ে নেয়ার খবরের পর এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক স্থাপনা। এদিকে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছে, রিয়াদ ইতিমধ্যে তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে ইরান অভিমুখে কোনো হামলার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।
যে ৬ উপায়ে হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প
যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তুঙ্গে। দেশটিতে চলমান প্রতিবাদ বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি। তাতে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ ইরানে থাকা তার নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
এমন অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। তারা বলেছে, ওইসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করতে পারে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাদে সব রকম ফ্লাইটের জন্য ইরান তার আকাশসীমাকে নিষিদ্ধ করে। প্রায় তিন ঘন্টা পরে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এর আগে ফ্লাইট রাডার ২৪ ওয়েবসাইট বৃহস্পতিবার এ তথ্য দিয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো বলেছে, ইরান আকস্মিকভাবে তার আকাশসীমাকে বন্ধ ঘোষণা করার পর তাদের অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর প্রভাব পড়বে।
এর আগে বুধবার জার্মানি নতুন একটি সতর্কতা জারি করেছে। ওই অঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের বিষয়ে এই সতর্কতা দিয়েছে তারা। ইরানের ওপর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবরকম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উড্ডয়নের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে না।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে কঠিন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখোমুখি।
ইসরাইলি একজন কর্মকর্তা বলেছে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে কখন তিনি এই হস্তক্ষেপ করবেন তা পরিষ্কার নয়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বুধবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে নিজেদের লোকজনকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান প্রতিবেশীদের সতর্ক করার পপর এ ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতার ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা উল্টো ফল দিতে পারে। তাদের মতে, বাইরের সামরিক চাপ ইরানের নেতৃত্বকে জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগিয়ে তুলতে, বিক্ষোভ আন্দোলনের বৈধতা দুর্বল করতে এবং শাসকগোষ্ঠীর চারপাশে অভ্যন্তরীণ সমর্থন আরও সুসংহত করতে সহায়তা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ছড়িয়ে আছে। এই বিস্তৃত উপস্থিতি এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগকে তুলে ধরলেও একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিতেও ফেলে দিয়েছে। গত বছর ইরান একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটন ওই স্থাপনায় কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনে।
একই বছরের জুনে তেহরান কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে, যা ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ ছিল। এর পর খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এই হামলা প্রমাণ করেছে- যেকোনো আক্রমণের জবাব দেয়ার ইচ্ছা ও সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
ওয়াশিংটনের বিবেচনায় থাকতে পারে যে ছয় সামরিক পথ
ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক বিকল্প পথ খোলা থাকবে। তা হলো-
১. আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে বিমান হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বি-৫২ বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হতে পারে।
২. নৌঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
৩. ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ: সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে উচ্চ মানের লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থাপনা বা দমন অভিযানে জড়িত ইউনিটগুলোর ওপর নিখুঁত হামলা চালানো হতে পারে।
৪. সাইবার যুদ্ধ: মার্কিন সাইবার অভিযান চালিয়ে ইরানের কমান্ড সিস্টেম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা অচল করে দেয়া হতে পারে, যাতে তেহরানের প্রতিক্রিয়া দেয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।
৫. গোপন বিশেষ বাহিনী অভিযান: এলিট বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় গোপন নাশকতামূলক অভিযান চালানো হতে পারে, যা পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন ছাড়াই ইরানের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
৬. দীর্ঘপাল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হতে পারে- যেগুলোতে কয়েক মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক শক্তিকে আরও দুর্বল করা।
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির পরিকল্পনা নেই
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়া বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির পরিকল্পনার খবর নাকচ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে এবং সম্ভাব্য ফাঁসি কার্যকর করা হবে না।
গত বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ফাঁসির প্রশ্নই ওঠে না।’
ট্রাম্প এর আগে সাংবাদিকদের জানান, তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং যেসব মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা ছিল, সেগুলোও স্থগিত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে আসলো যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ‘অপর পক্ষের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি নাকচ করেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখব পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘খুব ইতিবাচক বার্তা’ পেয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ইরানের প্রতি তার অবস্থানে কিছুটা নরমভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) এখনো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে ব্রিফিং পেয়েছেন। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে মনে হচ্ছে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হতে পারে এবং তিনি তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপের দিক থেকে সরে আসছেন।’
এবার কাতারের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাজ্য
রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার যুক্তরাজ্য কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সামরিক কর্মী সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিবিএস সংবাদমাধ্যমে এমনটাই দাবি করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
সিবিএস সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক সেনাদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের কিছু সামরিক কর্মীও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাতার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন সামরিক কর্মী প্রত্যাহার বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেয়া হয়েছে।
এই হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। কাতার সরকার আরও জানিয়েছে, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা সুরক্ষার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেনি। একজন সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের তেহরানের দূতাবাস অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং এখন এটি দূরবর্তীভাবে পরিচালিত হবে।
আল-উদেইদ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন এবং প্রায় ১০০ ব্রিটিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছেন।