ঈদযাত্রায় বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে ভোর থেকে প্রথম ধাক্কাতেই শেষ হয়েছে রাতের টিকেট। এই বিক্রিতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ননএসি বাসের ভাড়া ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হলেও. এসি বাসের ভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। আর বাস কোম্পানিগুলো বলছে, তারা বিআরটিএ থেকে ঠিক করে দেওয়া ভাড়াই নিচ্ছে। অন্য সময় বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কাউন্টারের সামনে দেখা গেছে টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি। বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে জানা গেছে, রাতের বাসগুলোর টিকেট শেষ হলেও, দিনের বাসের কিছু টিকেট এখনো রয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কথা হয় হানিফ এন্টারপ্রাইজের শ্যামলী রিং রোড কাউন্টারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানের সঙ্গে। এই কাউন্টার থেকে উত্তরের পথে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারীসহ বেশ কয়েকটি গন্তব্যের টিকেট বিক্রি করা হয়েছে।

মিজান বলেন,আমরা সাড়ে ৪টার সময় কাউন্টার খুলছি। তখনো লোকজন পেপার পাইতা সামনের ফুটপাতে বইসা আছিল। টিকেট বিক্রি শুরু করছি সকাল সাড়ে ৪টা থাইকা। তিনি বলেন প্রথম ধাক্কাতেই ১৭ ও ১৮ মার্চের রাতের বাসগুলোর টিকেট শেষ হয়ে গেছে। ১৫-১৬ তারিখের রাতের বাসেরও টিকেটও আর অবশিষ্ট নেই। তবে এইসব দিনের সকাল, দুপুর ও বিকালের বাসের টিকেট এখনো রয়ে গেছে। তার দাবি ভাড়া ‘বাড়ানো হয়নি, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়াই তারা নিচ্ছেন’। তবে গ্রাহকেরা বলছেন ভাড়া বেড়েছে এক থেকে দেড়শ টাকা।

ফরহাদ হোসেন ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার জন্য টিকেট কেটেছেন চারটি। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,এক একটা টিকেটের জন্য ১০৮০ টাকা করে দিতে হল। এমনি সময়ে এই টিকেট ৯০০ টাকাতে পাওয়া যায়। বাড়তি দামের কারণ তুলে ধরে পরিবহন কর্মী মিজান বলছেন, “নন এসি বাসের বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া ১০৮০ টাকা। এমনি সময় আমরা একটু কম নেই।

তবে এসি বাসগুলোর ভাড়া বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আরাফাত পরিবহন নামে একটি অপারেটরের দিনাজপুরের স্লিপার ক্লাসের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২৬০০ টাকা। আর দোতলা এসি ‘স্যুট ক্লাস’ বাসের চেয়ারের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২২০০ টাকা।

টিকেট কিনতে আসা সাব্বির হোসেন বলেন, এমনি সময়ের দিনাজপুরে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকাতেই স্লিপার বাসে যাওয়া যায়। আর এসি চেয়ারগুলোর ভাড়া ১০০০ থেকে ১১০০ এর মধ্যে থাকে। এখন সেটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

আরাফাত পরিবহনের কাউন্টারের কর্মী মো. হাসান বললেন, তাদের বাসের সব টিকেট এখনো ছাড়া হয়নি।

সাব্বির বলেন,ভাবছিলাম সবাই একসঙ্গে স্লিপার বাসে যাব। কিন্তু চারজনের শুধুমাত্র যাইতেই (ওয়ান ওয়ে) ১০ হাজারের বেশি টাকা লাগবে। এখন ভাবতেছি স্ত্রী সন্তানদের আগেই পাঠিয়ে দিব। ঈদের আগে আমি একটু কষ্ট করে হলেও চলে যেতে পারবো।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সকাল ৮টায় আগামী ১৩ মার্চের টিকেট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রার শতভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে, যা চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত।

মেট্রোরেলের ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য মেট্রোরেলসহ সব ধরনের রেলসেবায় ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। তবে এই ভাড়া ছাড় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধারা কী এ সুবিধা পাবেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সে বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।

ট্রেনে টিকিটগুলো এখন অনলাইনে কাটা হয়- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে ওখানে অপশন থাকবে, আইডি কার্ড দেখালে বয়স যদি ৬৫ বছরের বেশি হয়, তবে আপনি ওই ২৫ শতাংশ ডিসকাউন্ট পেয়ে যাবেন। অনবোর্ডেও আইডি কার্ড শো করতে হবে। স্টুডেন্টদের আইডি কার্ড শো করতে হবে এবং যারা প্রতিবন্ধী আছেন তাদেরও এই সুবিধা দেয়া হবে, তাদের একটা কার্ড মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা রেলের সার্বিক উন্নয়ন চাচ্ছি। সেবার মান, বর্তমানে যে সমস্ত ট্রেনগুলো চালু আছে তার গতি বৃদ্ধি এবং অল্প সময়ে যাতায়াত কিভাবে করা যায়, তার জন্য বিদ্যমান কিছু প্রকল্প আছে সেগুলো আরো বেগ পাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। নতুন কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যার ফলে রেলের বিদ্যমান যে অবস্থা আপনারা দেখছেন, যে সেবা এবং যে সার্ভিসটা এখানে আছে, সেটা আরো শক্তিশালী, জনবান্ধব এবং মানসম্মত হবে।