জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ড বিচার বানচাল করতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে পতিত সরকারের লোকজন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছে। যার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশন এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার বানচাল করতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য আমরা পেয়েছি। জড়িতদের অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করছি না। সময় হলে এসব জানানো হবে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, তা ব্যর্থ হবে এবং বিচার যথাযথভাবে হবে।’ তিনি বলেন, একইসঙ্গে চিহ্নিত করা হয়েছে নেপথ্যের কুশীলবদের। যথাসময়ে যড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হবে। গত ২৭ মার্চ তিনি জানান, ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে পাঁচজনকে গুলী করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদন শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

ছাত্র জনতার আন্দোলন নির্মূলে সংঘটিত হত্যা-গণহত্যা, বিগত আমলে গুমসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন নির্মূলে পরিচালিত হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিগত ১৫ বছরে গুমের বিভিন্ন অভিযোগ ও ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যার ঘটনায় এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে বিগত সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা ও বিচারের আরজি পেশ করা হয়েছে এসব অভিযোগে।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, এসব অভিযোগের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি (মিসকেস) মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনের মতো আসামী গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গত জুলাই-আগস্টে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার অনুগত প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলীতে নিহত হয় আনাস। আনাস দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় গত ২ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়।