সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল
আজ বুধবার বেলা ১২টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারগণ। সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন কমিশনে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের সাথে তফসিল ঘোষণার জন্য জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেকর্ড করা হবে। আজ সন্ধ্যায় অথবা কাল বৃহস্পতিবার এ ভাষণ সম্প্রচারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনারগণ এসব তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি দায়িত্ব পালনের জন্য ৩০০ জন বিচারক চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেন, আমরা নির্বাচনি ট্রেনে উঠে গেছি। এ সপ্তাহের মধ্যে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করা, এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ বা কার্টেসি কল ছিল। প্রধান বিচারপতি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সিইসি।
রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সিইসি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। তবে এবার তিনি একাই গিয়েছিলেন ইসি সচিবকে নিয়ে। অন্য কমিশনাররা ছিলেন না।
জানা গেছে, সীমানাসংক্রান্ত মামলা ও তফসিল ঘোষণার পর যেকোনো রিট যাতে নির্বাচনি কাজে বাধা না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছি। উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। সে জন্যে উনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘উনারা ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি (নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি) ডিপ্লয় করবেন। আমাদের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন সে বিষয়ে উনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেক্ট্ররাল ইনকয়ারি কমিটির যে ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবেনা বলে আশ্বস্ত করেছেন।‘এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’
এদিকে ইসিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় অথবা পরদিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ভাষণের সবকিছু চূড়ান্ত। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হবে।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, তফসিল ঘোষণায় রাজনৈতিক দলসহ সবার সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে নির্বাচন কমিশন।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না। তফসিল ঘোষণার পূর্বে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইসির দায়িত্ব নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দায়িত্ব আসবে তফসিল ঘোষণার পর। চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।
অপর দিকে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের পদে থেকে কেউ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি ভোটের প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। তফসিল ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তফসিল ঘোষণার জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা গ্রহণ করে রেখেছে ইসি। আসন বিন্যাস, আইন অনুযাযী রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার যারা থাকবেন তাদের প্রজ্ঞাপন, বিভিন্ন বিষয়ে ২০টির মতো পরিপত্র জারি হবে। সেখানে মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নিয়োগ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, মনিটরিং সেল গঠন, আইনশৃঙ্খলার সেল গঠন এগুলোর ফরমেটগুলো রেডি রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপর সেগুলো ধারাবাহিকভাবে জারি করা হবে বলে জানান এই কমিশনার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটে অংশ নিতে পারেন বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। এমনকি তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে তাদের সরকার থেকে পদত্যাগেরও আভাস পাওয়া গেছে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারের পদে থেকে নির্বাচনি প্রচার করা যাবে না। প্রচার করা না গেলে তো প্রার্থীও হতে পারবেন না। কাজেই সরকারের কোনো পদে থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।