শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির নেতারা জানান, আগামী কয়েক দিন এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। গতকাল শনিবার বিকেলে দলটির নেতাকর্মীরা একটি ট্রাকে চড়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন। মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি ফার্মগেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। এ সময় সংগঠনের প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম রহমান জানান, আগামী ৭ তারিখ হাদী হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিলের আগ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। এর মধ্যে ৪ দফা দাবি নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসবে ইনকিলাব মঞ্চ। সেখান থেকেই বড় আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা অভিযোগ করে বলেছেন, ওসমান হাদীকে গুলি করা ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল এ খুনের জন্যই। সরকারে বসা কে এ জামিনের জন্য তদবির করেছিল? কোন জজ এ রায় দিয়েছিল? সে কার রিক্রুট করা? কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছে? কার চ্যানেলে সে ইনকিলাবে এসেছিল? এর একদিন পরই ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। পোস্টে জুমা লেখেন, ‘ফয়সালকে জামিনে বের করা হয়েছিল এ খুনের জন্যই। সরকারে বসা কে এ জামিনের জন্য তদবির করেছিল? কোন জজ এ রায় দিয়েছিল? সে কার রিক্রুট করা? কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছে? কার চ্যানেলে সে ইনকিলাবে এসেছিল?
কবির নামে যাকে গ্রেফতার করা হলো সে সেন্টারে যেদিন প্রথম এ টাম্প নেয় সেদিন ফয়সালের সঙ্গে ছিল। ফয়সাল ছাড়া তার কাছেও লিড থাকার হাই চান্স আছে। তবুও কেন মামলার অগ্রগতি নেই? নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলা হচ্ছে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা জাতির সামনে উন্মুক্ত করলে অনেক জট খুলে যায়।’
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদীকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। এরপর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হাদীর মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশগ্রহণে হাদীর জানাযা শুরু হয়। জানাযা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়।