সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত সেমিনারে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন দেশের কণ্ঠ স্বাধীনভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে। সমালোচনার কিছু যৌক্তিক দিক আছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। যদি ১০টি কাজের মধ্যে সরকার ৪টি করে, সেই ৪টি স্বীকৃতি দিন। বাকি ৬টির জন্য অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বিএলএসএটি) এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ মুকতাদির রশিদ রোমিও, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ, এবি পার্টি এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, গণ অধিকার পরিষদ এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, কাপেং ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, অ্যাডভোকেট ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ এর সভাপতি জিল্লুর রহমান, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম মেম্বার রাগিব আহসান মুন্না, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন দেশের কণ্ঠ স্বাধীনভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমালোচনার কিছু যৌক্তিক দিক আছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। যদি ১০টি কাজের মধ্যে সরকার ৪টি করে, সেই ৪টি স্বীকৃতি দিন। বাকি ৬টির জন্য অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না।

তিনি বিচার বিভাগের সংস্কারের প্রসঙ্গ আইন উপদেস্টা বলেন,এখন পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি ও বাজেট বরাদ্দসহ সবকিছু উচ্চ আদালতের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এটি কি কোনো সংস্কার না? বাংলাদেশে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” ড. আসিফ বলেন,আমরা একটি গুম কমিশন করেছি, যা সফলভাবে কাজ করেছে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে হিউম্যান রাইটস কমিশন আইন তৈরি করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য হিউম্যান রাইটস আইনের তুলনায় আমাদের আইনটি আরও কার্যকর। অচিরেই কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার দাবি করে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন,বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার বিরুদ্ধে হয়েছে? আমার বিরুদ্ধে হয়েছে, চ্যালেঞ্জ করে বললাম। প্রথম চার মাসে শুধু চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও করা হয়েছে আমাকে টার্গেট করে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,মানবাধিকার আপেক্ষিক নয়, মানবাধিকার সর্বজনীন। আমরা জেনেটিক্যালি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ধারণা করি। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পাবলিক গুডস প্রোডিউস করে। টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্ম এই তিনটি বিষয় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিকরণ করে চলেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র মব শক্তি বিকশিত করছে।আগস্টের ৯ তারিখে প্রথম সচিবালয়ে এটি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়নারের সামনে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে আমরা কি করছি? রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকার থাকতে হবে।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমাদের দেশের মূলনীতি গুলো পরিচর্যা করতে পারে, তাহলেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্মের দ্বন্দ্ব দূর করতে হবে। নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার যেন বৈষম্য বিরোধী আইন তৈরি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। গণভোটে হ্যাঁ বা না বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও কিন্তু তার প্রয়োগ ঠিকঠাক হচ্ছে না। আগেই কোর্ট কিন্তু অনেকগুলো জামিন দিয়ে দিয়েছে, এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। আপনারা যারা সাংবাদিক, রিপোর্টিং করছেন গুম খুন নিয়ে। কিন্তু এখন লিখতে চান না কেন? ট্যাগ খাওয়ার ভয়। আমরা গোল টেবিলে বসি, যাতে একটি সাধারণ সহমত আসতে পারে।