রাজধানী বাসীর বাড়ি ফেরা দেখে মনে হচ্ছে ঈদে উৎসব। কিন্তু না, দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ তার পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করার লক্ষে এ বাড়ি ফের। রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট। আর এ ভোটের টানেই রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন লাখ লাখ মানুষ। গতকালের মতো আজও গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন তারা।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর, সায়দাবাদ ও সদরঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে, গতকালের মতো আজ যাত্রীদের ভিড় কম।

বাস কাউন্টারের কর্মীরা জানান, গতকাল যে যাত্রী দেখছি তা কোনো ঈদের সময়ও দেখিনি। আজ যাত্রী অনেকটা কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছি।

যাত্রীরা বলেন, বহু বছর পর ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। কালকে ভিড়ের কথা শুনে আসি নাই। আজকে পর্যাপ্ত বাস আছে। তবে, ভাড়াও বেশি রাখছে।

কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীরা বলেন, বছরে বাড়িতে তেমন একটা যাওয়া হয় না। ভোট উপলক্ষে কয়েক দিনের ছুটি পেয়েছি। ভোটও দেব, বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাব- সব মিলিয়ে এটা ঈদের চেয়ে কম কিছু নয়।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, বাকিরা ৫১টি দলের প্রার্থী।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে সম্প্রতি জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।