বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন পরিবারের সদন্যরা। সেইসাথে মানুষের ঢল নেমেছে কবরস্থল এলাকায়। শুক্রবার সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সেখানে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও বিজিবি।
শুক্রবার জুমাবার হওয়ায় সারাদিন, জিয়া উদ্যানের মোড় থেকেই ছিল জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদার কবরমুখী মানুষের ভিড়। অনেকেই ফুল নিয়ে আসেন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে। উদ্যানসংলগ্ন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা ও বেইলি ব্রিজ থেকে কবর পর্যন্ত ছিল নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আর কবরে পাশে নেতাকর্মীদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হয়েছে।
এদিন খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেন। তারা চলে যাওয়ার পর বেগম জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঢল দেখা যায়। নেতাকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী এবং সাধারণ মানুষ কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। কেউ কবর জিয়ারত, দোয়া এবং মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। কবর জিয়ারত করতে নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নামে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিনভর আসতে থাকে মানুষ। কেউ আসেন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে, কেউ আসেন প্রিয় নেত্রীর কবর একনজর দেখতে।
জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন।
যশোরের অভয়নগর উপজেলা থেকে আসা রকিবুল হাসান বলেন, নেত্রীর বিদায় জানাবার দিন অফিস থাকায় আসতে পারিনি। গতকালও চেষ্টা করেছিলাম আসার জন্য কিন্তু সুযোগ হয়নি। আজ বন্ধ থাকায় রাতে রওনা হয়েছিলাম। সকালে এসে ঢাকায় পৌঁছেছি। নেত্রীর কবর জিয়ারত করলাম। আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুক।
দুপুরে নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি ও সেই সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতত্বে নেতারা শেরে বাংলা নগরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফাতেহা পাঠ করে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাএ ঐক্যের নেতারা আজকে এখানে দেশনেত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেছি।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ১১টায় মায়ের ডাকের সভাপতি ও ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুসারীদের নিয়ে এসেছেন। আর কবরের পাশেই মাইকে বাজছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত। শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ জানান, বিএনপি না করলেও বেগম জিয়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই তারা ছুটে এসেছেন।
রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিন :
এদিন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়। দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজের পর বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হয়।
শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে শোক প্রকাশ করা হয়। এরপর দোয়ায় খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করেন- এ কামনাও করা হয়। শোকের শেষ দিন দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
গুলশানের আজাদ মসজিদে মিলাদে তারেক রহমান :
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেল চারটার কিছু সময় আগে তিনি দোয়ায় অংশ নিতে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে (আজাদ মসজিদ) যান।
এরপর জামাতের সঙ্গে আসরের নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। নামাজ শেষে তাঁর মা ও দলের চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক এই সরকারপ্রধানের জন্য এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে তাঁর দল বিএনপি।
খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরীসহ অনেকে।
মসজিদে নারীদের পৃথক নামাজের স্থান থেকে দোয়ায় অংশ নেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, তাঁর মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের সদস্য এবং স্বজনেরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন।