রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে সেটি তেজগাঁওয়ের বিজয় সরণি ঘুরে কারওয়ান বাজারের গোল চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা এই আল্টিমেটাম দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিহত মুসাব্বিরের মামা ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ আসাদ বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার এ দেশে থাকা দোসররা ও বিভিন্ন অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা প্রতিটি হত্যার বদলা চাই না, আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই খুনিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। পুলিশের যে সক্ষমতা আছে, আমরা বিশ্বাস করি তারা পারবে। এজন্য আমরা সবাই এবং এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে অবশ্যই খুনিকে গ্রেফতার করা সম্ভব।
এ সময় বক্তব্য দেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব তারেক। তিনি বলেন, মুসাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে পল্লবীতে মুসাব্বির ভাইয়ের এক বন্ধুকে দোকানে ঢুকে গুলি করা হয়। পরে একজনকে ধরা হলো, সেই ব্যক্তি মারা গেল। আমাদের কি বোকা মনে করা হচ্ছে। এভাবে হত্যার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। মুসাব্বিরের ঘটনায় যেন এমন কিছু না ঘটে। আরও বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা একজন প্রিয় অভিভাবককে হারিয়েছি। আজ তিন দিন হয়ে গেছে। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির ভাইয়ের ওপর হামলা ও তার হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এর আগে বসুন্ধরার পেছনে অবস্থিত আম্বরশাহ-২ জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি ফার্মগেট হয়ে বিজয় সরণি সড়ক ধরে তেজগাঁও থানার সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে বিক্ষোভ শেষে তারা কারওয়ান বাজারের গোল চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। মিছিলে এলাকাবাসীর পাশাপাশি তেজগাঁও বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।