ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে টানা চারদিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর নগরীর চিত্র এখন অন্যরকম। প্রতিদিনের চিরচেনা যানজট, অফিসগামী মানুষের ভিড় ও গণপরিপহনের চাপ কোনোটাই এখন চোখে পড়েনি । কর্মব্যস্ততা আর যানজটের জন্য পরিচিত এই মেগাসিটি এখন অন্যরকম এক রূপ ধারণ করেছে। রাস্তাঘাটে পিনপতন নীরবতা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে ঈদের ছুটির কথা।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বাংলামটর ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ঘুরে দেখা গেছে, চিরচেনা যানজট ও হর্নের উৎকট শব্দ নেই। হাতেগোনা কিছু বাস ও রিকশা চলাচল করলেও তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিল খুবই সামান্য। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না চালকদের।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী নাফিউজ্জামান মনির বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দেশে একটি সত্যিকারের ভোটের আমেজ পাচ্ছি। অফিস ছুটি হওয়ায় কিছু কাজ গুছিয়ে আজ গ্রামে যাচ্ছি ভোট দিতে। ঢাকার রাস্তা দেখে মনে হচ্ছে যেন ঈদ লেগেছে।’

একই সুর শোনা গেল ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘দোকানপাট বন্ধ, রাস্তা ফাঁকা। মানুষ ভোটের আনন্দের সঙ্গে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে শহর ছেড়েছেন। রমজানের আগে এটাই শেষ বড় ছুটি, তাই বাড়ি যাওয়ার তাড়না সবার মধ্যেই বেশি।’

যাত্রী সংকটে অনেকটা অলস সময় পার করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে মালঞ্চ পরিবহনের চালক সাহাবুদ্দিন শিহাব আক্ষেপ করে বলেন, ‘আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যাত্রী পাচ্ছি না। সিট খালি রেখেই গাড়ি চালাতে হচ্ছে।

রামনা বাস স্ট্যান্ডে বাসের চেকার ফয়সাল মোল্লা জানান, স্বাভাবিক সময়ে বাস কানায় কানায় পূর্ণ থাকলেও আজ প্রতি ট্রিপে ১০ থেকে ১৫ জনের বেশি যাত্রী হচ্ছে না। যাত্রী কম থাকায় পরিবহন শ্রমিকদের আয়েও টান পড়েছে।

রাজধানী ফাঁকা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বার বাসস্ট্যান্ড অপেক্ষা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাফিউজ্জামান মনির। তিনি বলেন, ‘আমার অফিস মঙ্গলবার ছুটি হয়েছে। কিছু কাজ বাকি ছিল, এ কারণে আজকে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি ভোট দিতে। রাস্তায় একেবারে গণপরিবহন নেই। দেশে দীর্ঘদিন পর একটি ভোটের আমেজ পাচ্ছি। এখন ঢাকায় যানজট নেই, ঠিক ঈদের আগের মতো মনে হচ্ছে।’

সায়েন্সল্যাব মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখন ঢাকায় একেবারে ঈদের আমেজ পাচ্ছি। দোকান বন্ধ, গণপরিবহন কম, চিরচেনা যানজট নেই। এবারের ভোটের আমেজ অন্য বারের তুলনায় অনেক বেশি। মানুষ কয়েকদিন ছুটি পেয়েছে তাই পরিবার সঙ্গে নিয়ে সময় কাটাতে ও ভোট দিতে বাড়িতে যাচ্ছেন। রমজানের আগে আর কোন ছুটি পাওয়া যাবে না, তাই বেশিরভাগ মানুষ বাড়ি গেছেন।’

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে মালঞ্চ পরিবহনের চালক সাহাবুদ্দিন শিহাব বলেন, “এখানে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি যাত্রীদের জন্য। রাস্তায় যাত্রীদের চাপ নেই। অন্যান্য সময়ে জিগাতলা বাস স্ট্যান্ডে যাত্রীদের অনেক চাপ থাকে। আজকে একেবারে ঈদের আগের মতো অবস্থা। তাই আমাদের ফাঁকা গাড়ি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

রমনা এলাকায় রমজান বাসের চেকার ফয়সাল মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সাধারণ সময় আমাদের বাস একেবারে ভর্তি থাকে।’ প্রায় ট্রিপে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী যাচ্ছে। আমরা যারা ঢাকায় রয়েছি।