জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর উপর গুলীবর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গুলীবর্ষণকারী ও হুকুমদাতাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ঢাকার বিজয়নগর এলাকার মতো জনবহুল এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদি গুলীবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং নিন্দা জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা বারংবার বলে আসছি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। সন্ত্রাসীদের দমনে কঠোর হন। কারণ তারা আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চাইবে। পতিত ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় সরকারের দুর্বলতা সুস্পষ্ট। ওসমান হাদির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের নানা প্রান্তে প্রচারণা চালাতে যাবেন। তাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আরো প্রকট হয়ে উঠলো।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারকে বলবো, অবিলম্বে এই আক্রমণের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করতে হবে। এটা আগামী নির্বাচনসহ সামগ্রিকভাবে দেশের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। ফলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আক্রমণকারী, নির্দেশদাতাসহ সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সচেষ্ট হতে হবে।
শরীফ ওসমান হাদীর উপর গতকাল দুপুরে প্রকাশ্যে গুলীবিদ্ধের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
গতকাল এক যুক্ত বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, তফসিল ঘোষণার পর পরই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতির ঘটনায় দেশবাসী আজ উদ্বিগ্ন। শরীফ ওসমান হাদীকে যে অপশক্তি হত্যার উদ্দেশ্যে গুলী চালিয়েছে, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে দমিয়ে রাখতে চায়। আমরা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সন্ত্রাসীদের দ্রুততার সাথে গ্রেফতার ও তাদের নির্দেশদাতাদের সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। মুমূর্ষু শরীফ ওসমান হাদীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
তফসিল ঘোষণার পূর্বেই আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দাবি জানিয়েছি। এখনো নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো প্রস্তুত নয়। আজকের এই ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন ও শংকিত। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নির্বাচনকালীন গণসংযোগের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। ৫ আগস্ট পরবর্তি লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এখনো দৃশ্যমান নয়। পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী অপশক্তি এখনো ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় লিপ্ত।
এমতাবস্থায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োগ করতে হবে।