মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলীতে মাথায় গুরুতর আহত টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান মারা গেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন সঙ্গে থাকা চাচা শওকত।

হুজাইফা এতোদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন জানিয়ে হাসপাতালের যুগ্ম-পরিচালক বদরুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, তার নিউমোনিয়া এবং ফুসফুস কলাপস করেছিল। তবে তার মাথায় যে গুলী, সেটা বের করা সম্ভব হয়নি।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের শোক

শিশু হুজাইফার ইন্তিকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলীতে আহত হয়ে দীর্ঘ ২৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে টেকনাফের শিশু হুজাইফার ইন্তিকালে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, নিরীহ একটি শিশুর এভাবে প্রাণ ঝরে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য হৃদয়বিদারক ও লজ্জাজনক ঘটনা। নিজের উঠানে খেলতে থাকা একটি শিশুর মাথায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা বুলেটের আঘাত প্রমাণ করে- উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে।

তিনি মরহুম হুজাইফার রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত বাবা-মা ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তাওফিক দান করেন-আমিন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সীমান্তে চলমান অস্থিরতার কারণে এভাবে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাবে- এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।