রাজধানীর বেইলি রোডের বাহারি ইফতারি নজর কাড়ে প্রতিবছরই। এবারো রমযানের শুরুতেই ইফতারির দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বেইলি রোডে। গতকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বেইলি রোডের অনেকগুলো ইফতারির দোকানে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতাদের চাহিদাকে সামনে রেখে, আয়োজনে নেই কমতি অভিজাত শ্রেণির জন্য। নতুন নতুন রেসিপি নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে কোনো কোনো দোকানে। ক্রেতারা বলছেন, দাম তুলনামূলক গত বছরের চেয়ে দাম এবার বেশি নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো আইটেমে পরিমাণ কম ও পণ্যের আকার ছোট করা হয়েছে। আর বিক্রেতারা বলছেন, তারা রজমান উপলক্ষ্যে অনেক পণ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন। উৎপাদন ব্যয় বাড়া সত্ত্বেও গতবছরের দামে বিক্রি করছেন।
বাসাবো থেকে আসা ক্রেতা রবিন হোসেন বললেন, প্রতিবছরই অন্তত ৩-৪ দিন বেইলি রোডে ইফতার খাওয়া হয়। আগের বছর ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ হালিম কেনা গেছে,এবার তা কিনতে ৬০০ টাকা লাগছে। অন্যান্য আইটেমেও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। এখানে ইফতারির আইটেমে কোনো কমতি নেই। দাম কমলে আশেপাশের মানুষও এখানে আসবে বলে মনে করছি।
এবছর বেইলি রোডের জনপ্রিয় ‘নবাবী ভোজ’-এ রজমান উপলক্ষে ৪৮ আইটেমের পসরা সাজানো হয়েছে। পেঁয়াজু, ছোলা, বেগুনি, বিভিন্ন ধরনের চপ থেকে শুরু করে লাচ্ছি, কাশ্মীরি নান-পরোটা, ফালুদা, বিভিন্ন ফলের লাচ্ছি, নবাবী শাহী হালিম, নবাবী স্পেশাল শাহী জিলাপি, বিভিন্ন ধরনের কাবাব, মোরগ পোলাও, কাচ্চি বিনিয়ানি ও তেহারি-বিভিন্ন ধরনের চিকেন আইটেমে ভরপুর এ ইফতারি বাজারটি। একটি আইটেমে সর্বনি¤œ ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম রাখা হচ্ছে নবাবী ভোজে। প্রতিটি পেঁয়াজু, বেগুনি, সবজি পাকোড়ার দাম রাখা হচ্ছে ২০ টাকা করে, ডিম চপ, ফুলকপির চপ, অনথন, স্প্রিং রোলের দাম ৩০ টাকা এবং চিকেন সামুচা, মধুসা ও রুমালি রুটির দাম রাখা হচ্ছে ৪০ টাকা করে। মধুবান ৫০ টাকা, জালি কাবাব (চিকেন) পিস ৬০ টাকা এবং নবাবী টানা পরোটা ও স্পেশাল বাটার নানের দাম নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা।
বিভিন্ন ধরনের চিকেন ও কাবাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ২৯০ টাকা পর্যন্ত, কাশ্মীরি নান-পরোটা ১৮০ টাকা, তেহারি, মোরগ পোলাও ও কাচ্চি বিরিয়ানি ৩০০-৩৪০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের লাচ্ছি ১৩০ থেকে ২৫০ টাকা, নবাবী দই বড়া (কেজি) ৪৫০ টাকা, ঘি ও জাফরানে ভাজা নবাবী স্পেশাল বোম্বে জিলাপি ৩৫০ টাকা, শাহী জিলাপী ৪৫০ টাকা, রেশমি জিলাপি ৬৫০ টাকা, নবাবী স্পেশাল বুন্দিয়া ৩৫০ টাকা, স্পেশাল জর্দা ২৫০ টাকা, স্পেশাল ফিরনি ছোট-বড় ৬০-২০০ টাকা, নবাবী জাফরানী পেস্তা বাদামের শরবত ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাটন লেগ রোস্ট পিস ৬০০ টাকা, আস্ত মুরগির রোস্ট ৬৫০ টাকা, বিফ ভুনা-বনলেস (কেজি) ১৬০০ টাকা, মাটন ভুনা (কেজি) ১৮০০ টাকা এবং নবাবী শাহী হালিম (বিফ/মাটন/চিকেন) এক হাড়ি ৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নবাবী ভোজ হালিমের জন্য ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়। যারা এখান থেকে যারা হালিম কিনেন, তারা বারবার আসেন। এছাড়া, রমযান উপলক্ষে তাদের স্পেশাল ইফতার প্যাকেজে ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বেইলি রোডের বিখ্যাত ‘এ ওয়ান ফুডে’ ইফতারির ৩০ রকমের আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে চিকেন ড্রামস্টিক ৮০ টাকা, কিমা পরোটা ১৫০ টাকা, ওয়েস্টার কাবাব ৮০ টাকা, ভেজিটেবল কাটলেট ৫০ টাকা, চিকেন অন্থন ৪০ টাকা, পেঁয়াজু ও বেগুনি ১০ টাকা, ফিশ বল ৯০ টাকা, জালি কাবাব ৭০ টাকা, চিকেন আচারী কাবাব ১০০ টাকা, চিকেন মালাই কাবাব ১২০ টাকা, বারবিকিউ চিকেন রোল ১৬০ টাকা, চিকেন অনিয়ন রোল ১৫০ টাকা, স্পাইসি চিকেন ৮০ টাকা ও চিকেন ললিপপ ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এই দোকানে দই বড়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ফালুদা ৮০ টাকা, গাজর ফিরনি ৮০ টাকা এবং হালিম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ওয়ান ফুডের এক বিক্রয়কর্মী জানালেন, আমাদের এখানে ৩০টিরও বেশি আইটেম আছে। এর মধ্যে কিছু আইটেম আছে ১২ মাস থাকে। আর কিছু আইটেম রমযান মাস উপলক্ষ্যে বাড়ানো হয়। আমাদের ফুডের কোয়ালিটি ভালো। যারা একবার নেয় তারাই বারবার আসে। আমাদের রিপিট বায়ার বেশি। গতবছরের চেয়ে অনেক পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেশি। তবুও আমরা কোনো কোনো পণ্যে রমযানে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার বলেন, গতবছর ও এবছরের মধ্যে বিক্রি তুলনা করলে এটি ১৯-২০ বলা যায়। আরো কয়েকদিন না গেলে বিক্রির তুলনামূলক বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, এখন পর্যন্ত আমাদের যা বিক্রি হচ্ছে, তা অনেকের চেয়ে ভালো।
বেইলি রোড মোড়ে ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছে ‘বোমার্স ক্যাফে’। ইফতারে বিশেষ দুটি প্যাকেজ আইটেম নিয়ে ভোক্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এই শপটি। ১০টি আইটেমের একটি প্যাকেজের দাম ৪৫৯ টাকা এবং ৯টি আইটেমের আরেকটি প্যাকেজের দাম নেওয়া হচ্ছে ৫৪০ টাকা। বোমার্স ক্যাফের বিক্রয়কর্মীরা জানান, সাধারণত ৫-৭ রমযানের পর বিক্রির চাপ বাড়ে। এখন পর্যন্ত তেমন বিক্রি হচ্ছে না। আমাদের সব আইটেমের দাম গত বছরের মতোই রয়েছে। আশা করছি এবার গতবছরের তুলনায় ভালো বিক্রি হবে। এছাড়া, ক্যাপিটাল ইফতার বাজার, মিনা সুইটস, মিষ্টি ডেইরি ফার্ম সুইটস অ্যান্ড বেকারি, বারবিকিউ ইফতার বাজার, কেক লাভার্সসহ বেশ কয়েকটি ইফতারির দোকানে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বেচা-বিক্রি খুব একটা নেই। তাদের প্রত্যাশা আরো কয়েকটি রোজা যাওয়ায় পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে।