যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম এবং আরব আমিরাত ও মরক্কো থেকে সার কিনবে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এগুলো আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বৈঠকে টিসিবির জন্য দেড় কোটি লিটার ভোজ্যতেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের সূত্র জানানয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে (জিটুজি) পদ্ধতিতে ৮৪২ কোটি ৬ লাখ টাকায় ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি মেট্রিক টন গমের দাম ধরা হয়েছে ৩১২.২৫ মার্কিন ডলার। জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই গম আমদানি করতে মোট ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৯৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮৪২ কোটি ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস হোয়াট অ্যাসোসিয়েটস কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই গম আমদানি করা হবে।
অণ্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কো থেকে ৮০ হাজার টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এতে মোট ব্যয় হবে ৫৩৬ কোটি ৪৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪০ টাকা। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনা হবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। ফার্টিগ্লোব ইউএই থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়। এরই মধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি সভার অনুমোদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফার্টিগ্লোব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ২ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি সই হয়। এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২৫০ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যার মধ্যে ১ কোটি লিটার রাইস ব্রান তেল ও ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। জানা গেছে, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কিনতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৬টি দরপ্রস্তাব
জমা পড়ে।
তার মধ্যে ৫টি দরপ্রস্তাব আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি (দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি)’র সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান তামিম অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৩০ লাখ লিটার এবং মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকে ৭০ লাখ লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি লিটার রাইস ব্রান তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৬১ টাকা। এতে ১ কোটি লিটার তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৬১
কোটি টাকা।