শেষের পথে মাগফিরাতের দশক। আগামীকাল থেকে শুরু হবে নাজাতের দশক। একে একে ফুরিয়ে যাচ্ছে মাহে রমযানের বরকতময় দিনগুলো। রোযা যেমন দেহের পরিশুদ্ধতাকারী, যাকাত তেমন অর্জিত ধন-সম্পদের পবিত্রতাকারী। মহান রাব্বুল আলামীন সূরা আত-তাওবার ১০৩ নং আয়াতে মহানবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে ধনীদের সম্পদ হতে যাকাত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এরশাদ হয়েছে, “হে নবী, তাদের ধন-মাল হতে যাকাত গ্রহণ করো। এর সাহায্যে তুমি সেগুলোকে এবং তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ কর।” যাকাত না দিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামায এবং রোজার সম্পর্ক মানুষের দৈহিক পরিশ্রম ও মনের সাথে সম্পৃক্ত, পক্ষান্তরে যাকাত ও হজ্বের সম্পর্ক অর্থের সাথেও রয়েছে। বিশেষভাবে যাকাত ধনী বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ওপরই ফরয হয়ে থাকে। হাদীস শরীফে আছে, রাসূল সা. ইরশাদ করেন- ‘তাদের মধ্যে যারা ধনী তাদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আর তাদের মধ্যে যারা দরিদ্র বা অভাবী তাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।’ (বুখারী ১৪০১)

যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বর্ধিত হওয়া, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করা। আর ব্যাপক অর্থে যাকাত বলতে বুঝায়, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নেসাব পরিমাণ সম্পদের এক বছরান্তে আল কুরআনে বর্ণিত খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ প্রদান করা। ঠিক কখন যাকাত ফরয হয়েছে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। মুহাদ্দিস ইবনে খুযায়মা দাবি করে বলেছেন, “হিজরতের পূর্বে যাকাত ফরয হয়েছিল। কারো মতে হিজরী দ্বিতীয় সনে রোজা ফরয হবার পূর্বে। ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর বলেছেন, হিজরী নবম বছরে। আবার অনেকের মতে, সপ্তম হিজরীতে ফরয হয়। আল্লামা ইবনে আসীর লিখেছেন, যাকাত ফরয হবার হুকুম মক্কা শরীফে নাযিল হয়েছে। তবে নিয়ম ও বিধি, কোন জিনিসে কতটুকু ও কিভাবে যাকাত দিতে হবে তার বিস্তারিত বিধি বিধান মদীনায় নাযিল হয়েছে।

ইসলাম সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। একজনের হাতে বিপুল অর্থ-সম্পদ জমা হওয়াকে ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম চায় ধনী-গরিব সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করুক। তাই দরিদ্রের প্রতি লক্ষ্য করে জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। হাদীসের ভা-ারে সংরক্ষিত হয়েছে যাকাতের বিশেষ গুরুত্ব সংবলিত অনেক হাদীস।

জারির ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘আমরা রাসূল সা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার ওপর। (বুখারী, মুসলিম)

আবু সায়ীদ রা. বর্ণনা করেন, ‘একদা রাসূল সা. আমাদেরকে নসিহত করছিলেন। তিনবার শপথ করে তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, রমযানের রোজা রাখবে, যাকাত প্রদান করবে এবং সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য অবশ্যই বেহেশতের দরজা খুলে দিয়ে বলবেন, ‘তোমরা নিরাপদে তাতে প্রবেশ কর’।’ (নাসায়ী: ২৩৯৫)

যাকাত কারা পাবে বা যাকাতের মালের হকদার কারা বা যাকাতের সম্পদের বিতরণের খাতসমূহ সম্পর্কে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আত তাওবার ৬০ নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। তারা হলো ফকির, দরিদ্র, মিসকীন, যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তি, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য নওমুসলিমকে, ক্রীতদাস বা গোলাম মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরকে যাকাতের অর্থ প্রদান করতে হবে।

সূরা মাআরিজের ২৪-২৫ আয়াতে আল্লাহ বলেন; ‘আর যাদের ধন সম্পদে রয়েছে ভিক্ষুক এবং বঞ্চিতদের জন্য নির্দিষ্ট অধিকার।’