বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ন্যায়সঙ্গত ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। দেশ ও জাতির ক্ষতি হলে অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ করবো। তিনি বলেন, সুদিন দুর্দিন যা-ই আসুক আমরা দেশবাসীর সাথে থাকবো ইনশা আল্লাহ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে নব নির্বাচিত এমপিদের সাথে মতবিনিময়ের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনের দুটি দিক ছিল। একটি ছিল জনআকাক্সক্ষা পূরণের প্রত্যাশিত সংস্কারের জন্য ভোট। আরেকটি ছিল সরকার গঠনের জন্য ভোট। তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাহ্যত শান্তিপূর্ণই হয়েছে। কিছু জায়গায় কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেওয়া, উৎশৃঙ্খল আচরণ এগুলোকে একদিকে রাখলে বাহ্যত মনে হবে শান্তিপূর্ণই হয়েছে। জনগণ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছে। কিন্তু ভোট দেয়ার পরের অধ্যায়টা ছিল অস্পষ্ট। সেখানে বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে। এসবের পরও আমরা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেইসাথে আমরা এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছি যে অতীতের কথাগুলো অতীত ধারায় নয়; বরঞ্চ একটি সুষ্ঠুধারার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আমাদের সঙ্গীয় দলগুলোর সংসদ সদস্যরা আছেন, তারা আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ন্যায়সঙ্গত ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। দেশ ও জাতির ক্ষতি হলে অবশ্যই আমরা প্রতিবাদ করবো। কুরআন অনুসারেই আমাদের এই অবস্থান স্পষ্ট। তাতে বলা হয়েছে, তোমরা ন্যায়সঙ্গত কাজে সহযোগিতা করো। অন্যায় কাজের সঙ্গী হইয়ো না। জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, আমরা সরকারী দল না বিরোধী দল সেটা আমাদের কাছে বড় বিবেচ্য বিষয় না। বরং একেকজন সংসদ সদস্য কতটুকু দায়িত্বশীলতার সাথে তারা জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করলেন, মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করলেন সেটাই আমাদের কাম্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সকল স্ট্রাকটার প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এগুলো ফিরিয়ে আনতে গেলে অবশ্য দায়িত্ব বেশি সরকারী দলের। তাদেরকেই বলবো তাদেরকেই কাজটি করতে হবে। তাহলে অচল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সচল হবে। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সর্বত্র ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এই জায়গাগুলোতে অবশ্যই আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো ইনশা আল্লাহ। এসব ব্যাপারে আমরা জাতির পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবো। জাতীয় সংসদে কার্যকর এবং গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দুনিয়ার সভ্য দেশগুলোতে যেরকম দায়িত্ব পালন করে, আমরা সেই সংস্কৃতিটা সংসদে দেখতে চাই।

তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে দুটা অঙ্গ, একটি সরকারী দল, আরেকটি বিরোধী দল। বিরোধী দল যেন তাদের ন্যায্য অধিকার এবং সংসদে কথা বলার অধিকার পায়। আমরা তাদের আশ^স্থ করবো-- দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা হাতে হাত রেখে কাজ করবো। এই পাহারাদারির মধ্য দিয়ে আমরা জাতিকে কাক্সিক্ষত গণতন্ত্রের রাস্তায় নিয়ে যেতে পারবো বলে প্রত্যাশা করি। আমরা সংসদে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে থাকতে চাই। জনজীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণ যেন সিন্ডিকেটের কবলে পরে অতীষ্ঠ না হয় সেই অবস্থা থেকে আমরা বের করে আনতে পারবো যদি সরকারী দল আন্তরিকতার সাথে উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। মূলকথা জুলাই অ্যাক্টের প্রেক্ষাপটে আমরা দায়িত্ব পালন করবো।

তিনি আবারো জুলাইযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পুরো জাতি মূলত জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছে। সেটা স্মরণ করে সংসদ পরিচালনা করা হলে আমরা বিশ^াস করি, এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে ইনশা আল্লাহ। আর যদি জুলাইকে ভুলে যাই, তাহলে জাতীয় জীবনে বার বার জুলাই ফিরে আসবে। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই, জুলাই যে কারণে ফিরে এসেছে, সেই কারণ যেন আর দ্বিতীয় বার তৈরি না হয়। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, ১৯৪৭ এবং ১৯৭০ দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন না করার কারণে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি আবারো বলেন, আমরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ করি, তাহলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকরূপ পাবে। এর কোন বিকল্প আপাতত নেই। এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এতোটা সহজ বিষয় নয়। অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে সামনে। চ্যালেঞ্জ যা-ই আসুক আমরা মনে করি আন্তরিকভাবে কাজ করলে আমরা পারবো।

ডা. শফিকুর রহমান পুরো দেশবাসীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং পাশে দাঁড়ানো এবং ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশবাসী পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, নির্বাচনে তার প্রতিফলন হোক বা না হোক আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, নির্বাচনের আগে আপনাদের যেসব কথা দিয়েছিলাম;্ একটা বিরোধী দল হিসেবে আমাদের নিজেদের অবস্থান থেকে তার যতটুকু সম্ভব তা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ। এজন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করি। আমরা বলবো আমরা আপনাদের পাশে আছি। আমরা আপনাদের ছেড়ে কোথাও যাবো না। সুদিন দুর্দিন যা-ই আসুক আমরা দেশবাসীর সাথে থাকবো।