প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য নেই। ঐক্য না থাকার কারণেই নানা পক্ষ সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের হয়রানি করে থাকে। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার পরও সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশে সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিআরইউর কাছে ইউনেস্কোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সহিংস পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে পাঠানো হলেও বেশিরভাগ গণমাধ্যমই তাদের জন্য হেলমেট, বুলেট প্রুফ ভেস্ট, গগলস বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী কোনো সরঞ্জাম দেয়া হয় না। অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, ছয়জন সাংবাদিক নিহত ও অনেকেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হলেও সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ বা বিবৃতি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং সরকারের ব্যর্থতা দেখিয়েছেন এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ইভেন্ট কাভার করতে সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিষ্ঠান ও মালিকপক্ষের দায় নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি। শুধু সরকারকে দোষারোপ করে অন্য দায়গুলো আড়াল করা ঠিক নয়।
ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে সাহসিকতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে সত্য তুলে ধরেন। তবে কিছু ঘটনায় ন্যায্যতা ও নৈতিকতার সীমা অতিক্রমের উদাহরণও রয়েছে, যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও দেখা যায়। অনেক সময় আইনি জটিলতা থাকে।
তিনি বলেন, এই ‘লিগ্যাল সাপোর্ট ডেস্ক’ সাংবাদিকদের আইনি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে, তাদের দায়িত্ব ও অধিকার বুঝতে এবং কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে করণীয় নির্ধারণে সহায়তা করবে। নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
ইউনেস্কোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের (জিএমডিএফ) ঢাকা অফিসের প্রতিনিধি লিনা ফক্স বলেন, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা ক্রমবর্ধমান আইনি হয়রানি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।বিভিন্ন দেশে জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ সাংবাদিকদের জন্য সময়োপযোগী আইনি সহায়তা নিশ্চিত করবে।
ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারন সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, ডিআরইউর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না প্রমূখ