তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চলমান সংকটে ভুগছে গাড়িতে এলপিজি সরবরাহকারী গ্যাস স্টেশনগুলো। তারা বলছে, এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন থেকে গাড়িতে এলপিজি সরবরাহ করা হয়। মাসে তাদের চাহিদা ১৫ হাজার টন। নিয়মিত এলপিজি পাচ্ছে না তারা। এতে অনেক স্টেশনের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে।
গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানায় বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের চলমান এলপিজি সংকট এখন আর শুধু একটি ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক সমস্যা নয়। এটি সরাসরি সারা দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, ভোক্তাস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেড় লাখের বেশি এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকেরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।
সংগঠনটি বলছে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয় দেশে। এর মধ্যে যানবাহন খাতে মাত্র ১০ শতাংশ এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতি মাসে এ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অনুরোধ করে তারা। এ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরা চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংকট সমাধানে তাঁরা সরকারের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে আছে অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘যানবাহন খাতের জন্য প্রতি মাসে মোট ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ গ্যাস স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হোক। এই ন্যূনতম সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় মালিকেরা কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। অনেক উদ্যোক্তা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। এই সংকট থেকে উত্তরণে দ্রুত আমদানি স্বাভাবিক করা এবং সংকটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের দাবি জানান তারা।
ছয় দফা দাবি : অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহ বন্ধ বা সীমিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এলপিজি আমদানি বাড়াতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর আবেদন দ্রুত অনুমোদন করা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও শাস্তি নিশ্চিত করা। বর্তমান সংকটে স্টেশন মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুরক্ষা প্রদান।