গোয়েন্দা কর্মকর্তারা টেলিভিশনের স্ক্রলে কী দেখানো হবে তা নির্ধারণ করতেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সামনে বসেই তারা স্ক্রল বলত, আর সেই কথাই টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করত।

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘সময় টিভি, ডিবিসি ও ৭১ টিভিসহ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ‘নোংরা ভূমিকা’ পালন করেছে। এসময় তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর কাকরাইলে একটি ‘সেইফ হাউজে’ আমাদের বন্দী অবস্থায় রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পেশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এ মামলায় বর্তমানে ছয় আসামী গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন, এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। গতকাল সকালে কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে, ২৭ নভেম্বর ১৮তম দিনের মতো ২১ নম্বর সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য গতকালের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৪ নভেম্বর এ মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার জবানবন্দী দেওয়ার কথা ছিল। তবে সাক্ষী হাজির হলেও বিশেষ কারণে নেওয়া হয়নি। ২৩ নভেম্বর জবানবন্দি দেন এক শিক্ষার্থী। আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া মৃত ঘোষণার পর পথ থেকে তার লাশটি পুলিশ কেড়ে নিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন। পরে তাকে জেরা করেন পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ও গ্রেপ্তারদের আইনজীবীরা। ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্য দেন শিক্ষার্থী শান-এ রওনক বসুনিয়া। তিনিও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

ভারতের কনসার্ন নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না: হাসনাত আবদুল্লাহ

ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভারতের কনসার্ন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে, ব্যুরোক্রেসিকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে, মিলিটারিকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে, পাশের দেশ ভারতের কনসার্ন নিয়ে আমরা কোনো ক্ষমতায় যেতে চাই না।

আপনারা কি ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা জনগণকে নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। কোন আনহোলি নেক্সাসকে, ম্যানেজ করে আমরা কোনো কন্ট্রোলডভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই না।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণ যদি আমাদেরকে ম্যান্ডেট দেয়, জনগণকে যদি মনে করে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার উপযোগী আমরা যেতে চাই।