ভোট যুদ্ধে নামার আগে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে কড়াইলবাসীদের কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান। একইসাথে কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা যাতে মর্যাদার সঙ্গে মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়, সেজন্য সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। দোয়া মাহফিলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিনী ডা. জোবায়দা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমি একটা কথা বলতে চাই। আমি জানি না এটা নির্বাচন আচরণ বিধিতে পড়বে কিনা, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কিনা, আমি আল্লাহ রহমত নিয়ে বলতে চাই আপনাদের যদি প্রত্যেকের দোয়া থাকে , আল্লাহ যদি রহম করেন আমি এখানে কয়েকটি কাজ করতে চাই যদি উনি আমাকে সেই সুযোগ দেন। আমরা এখানে উুঁচ উুচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই। এখানে যে মানুষগুলো থাকেন তাদের নাম রেজিষ্ট্রি করে তাদের প্রত্যেকের নামে আমরা ফ্ল্যাট দিতে চাই। এখানকার যারা বহু বছর আছেন তাদেরকে আমরা সেগুলো দিতে চাই যাতে করে তাদের ঢাকা শহরে মাথা গোঁছার ঠাই হয়। সকল কিছু নির্ভর করছে আপনাদের দোয়ার উপরে। কড়াইল বস্তিতে শিশুদের জন্য দুইটি স্কুল ও খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থা করার কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। চিকিৎসার ব্যবস্থাও এখানে করার কথাও বলেন।
কড়াইলের কয়েকজনের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজকে এটা দোয়া মাহফিল। আল্লাহর কাছে আসুন দোয়া চাই। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন তাহলে আমরা ইনশাল্লাহ যেকোনো কাজে সফল হতে পারব। আজ এখানে হাজার হাজার মা-বোনেরা বসে আছেন। সারাদেশে মা-বোনেরা কষ্টের মধ্যে আছেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন আমরা সেই মা-বোনদের জন্য, তারা যাতে স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারেন তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড নামে একটি কার্ড দিতে চাই। যাতে করে মা-বোনদের উপকার হয়। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিতে চাই। আল্লাহ যদি তৌফিক দেন এবং আপনাদের যদি থাকে আমরা এই কাজগুলো করতে সক্ষম হবো।
তিনি বলেন, কড়াইলবাসীরা এখানে বসবাস করেন, আপনাদেরও সন্তান আছে, আমারও সন্তান আছে। আমাদের ভবিষ্যত হচ্ছে আজকের সন্তানেরা। আমরা চাই, দালানে যে থাকে তার সন্তান যেমন শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পাবে ঠিক একইভাবে কড়াইল বস্তিতে যে মানুষগুলো থাকে তাদের সন্তানেরাও সেই সুযোগ-সুবিধা পাবেৃ তাদের সন্তানরাও যাতে লেখাপড়ার সুযোগ পায়, তারা যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায়, তারা যাতে বিদেশী ভাষা শিখতে পারে, তাদের সন্তানরাও যাতে চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে আল্লাহ যদি রহম করেন আমরা আপনাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করতে চাই।
তারেক বলেন, আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, আপনাদের জন্য। এরআগেও বিএনপি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, বিএনপি মানুষের কাছে যে জবান দিয়েছে আমরা আমাদের সাধ্য নিয়ে চেষ্টা করেছে সেই জবাব রক্ষা করার জন্য।
বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, আমিনুল হক প্রমূখ নেতারাও ছিলেন।
তারেক রহমানের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমিও এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। এই এলাকার যেই সমস্যাগুলো আপনাদের কাছে আছে, আমরা সকলে মিলে ইনশাল্লাহ সমাধান করতে পারব। এতোটুকু আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, যতদিন বেঁছে থাকব, যতদিন আল্লাহ রহমত থাকবে আমার উপরে, ইনশাল্লাহ আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।
আগামী বৃহস্পতিবার সিলেটে হয়রত শাহ জালাল (রহ) ও হয়রত শাহ পরানে(রহ) মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করবেন তারেক রহমান।