দিন সপ্তাহ মাস পেরিয়ে বছর শেষ হয়ে নতুন এক বছরে পা রাখলো মহাকাল। ক্যালেন্ডারের হিসাবে ২০২৬। নতুন আশা, প্রত্যাশা, নতুন স্বপ্ন-সম্ভাবনা নিয়ে নতুন বছর এলো আমাদের মাঝে। স্বাগত ২০২৬। নানা আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করবে বিশ^বাসী। নতুন বছর আমাদেরকে অনেক প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। পুরানো জঞ্জাল পেছনে ফেলে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে বহুদূর। ১৮ কোটি মানুষ ৩৬ কোটি হাত সম্মিলিতভাবে কাজ করে দেশকে নিয়ে যাবে সমৃদ্ধির পথে।
নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট। তাই বলা যায়, নির্বাচনী উত্তাপে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে নতুন বছর। জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা বহুগুণে বেড়ে গেছে। তাই নতুন বছর দেশবাসী সৎ, মেধাবী ও যোগ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এবং গণভোটের পক্ষে সায় দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ বহুগুণে এগিয়ে যাবে। সেইসাথে তারুণ্য পাবে আধিপত্যমুক্ত স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ। পুরোনো বছরের স্মৃতি কাটিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ। দেশে ফিরে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বস্তি ও গতিময়তা। নতুন বছরকে নিয়ে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার পলায়নের পর ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে যে সংস্কারের সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে তার সুফল নির্ভর করছে এই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ওপর। যোগ্য নেতৃত্ব ক্ষমতায় এলে দেশ আমূল বদলে যাবে। জনগণ মুক্তি পাবে পঙ্কিল রাজনীতির অক্টোপাস থেকে। সমাজে সুশাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা পাবে। জাতি ভোগ করবে সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ। নাগরিক তার অধিকার পাবে বিনাবাক্য ব্যয়ে। মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ হবে স্বাভাবিকতার চেয়ে দ্রুতগতিতে।
বলতে গেলে নতুন বছর জাতির প্রত্যাশার পাল্লা অনেক ভারী। নতুন বছর ফ্যাসিজম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় কার্যকর হবে। পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনা হবে। পাচার হওয়ার অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা হবে। পাশর্^বর্তী দেশের দাদাগিরি কমে স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরবে। রোহিঙ্গা মুসলিমরা তাদের দেশে ফিরে যাবে এবং অধিকার ফিরে পাবে। বিশ^জুড়ে হানাহানি, যুদ্ধ, দাঙ্গা ও উত্তেজনা কমে আসবে।
স্বাভাবিক নিয়মেই বিগত বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব ও নতুন বছরের পরিকল্পনাকে আরো উজ্জীবিত করবে এমন ভাবনাকে পুঁজি করে বিশ্বের সব জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আশাবাদী হয়ে খ্রিস্টীয় ২০২৬ সালকে বরণ করছে আনন্দ-উল্লাসে। নতুন নতুন স্বপ্নের খোঁজে স্বপ্নবাজরা ছক আঁকছেন উন্নত জীবন আর সামগ্রিক উন্নয়নের।
বাস্তবতা হলো-নববর্ষ বরণের এই শুভক্ষণে সবারই অজানা সামনের বছরে কী অপেক্ষা করছে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসীর ভাগ্যে। তবে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে মঙ্গলময় ভালো কিছুর প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শপথ সবার। শুভ প্রয়াস ও ভালো কিছুর প্রত্যাশা সব সময়েই থাকে। এমন কল্যাণকর উন্নয়নের আশায়ই পথচলা শুরু হয় একটি নতুন বছরের নতুন দিনের।
নতুন বছরে আমাদের প্রতিজ্ঞা জুলাইযোদ্ধাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বিভেদহীন সমাজ বিনির্মাণে কাজ করা। অবিচল প্রচেষ্টায় আগামীর সুখময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টায় কাজ করে যাওয়া। নি¤œ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে ইতোমধ্যেই আমরা স্বীকৃতি পেয়েছি। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিশ্রম, সততা ও আন্তরিকতাপূর্ণ সংকল্প নিয়ে কর্মোদ্যমী হওয়া। সব বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আলোকিত সময় উপহার দেয়া। নবউদ্যম আর কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত বছর হিসেবে ২০২৬ সালকে আমরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন ও দিন বদলের প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের মহিমায় উজ্জ্বল করার প্রত্যাশায় বিবেককে জাগিয়ে তোলা দরকার সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে।
নতুন প্রত্যাশা আর স্বপ্নে উদ্ভাসিত নতুন বছর ২০২৬ সালে সূচনা হোক আলোকিত দিন আর নিরাপদ জীবনধারার। আমরা আশাবাদী, কল্পনা আর কর্মে। আশাবাদী মানুষের অপূর্ণতাগুলো পরিপূর্ণতা পাবে সব পুরনো সমস্যার যুগোপযোগী সমাধানে। নবজাগরণে নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়িত হবে প্রতিটি পদক্ষেপে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়বিচার, প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার কাক্সিক্ষত অধিকার -এমন প্রত্যাশা আজ সবার মনে। সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের কর্মঠ হাতের ছোঁয়ায় আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ সমৃদ্ধিতে ভরে উঠবে- সেই কামনায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা হোক আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়নে।
নতুন বছর মানেই নতুন আশা, স্বপ্ন আর ভালো কিছু করার অঙ্গীকার; পুরনো ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরু করা, জীবনে আনন্দ, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করা এবং ব্যক্তিগত ও দেশীয় উন্নয়নের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করাÑএটাই নতুন বছরের মূল প্রত্যাশা, যা ব্যক্তি ও সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে চালিত করে।
অতীতের গ্লানি ভুলে এবং সাফল্যটুকু তুলে নিয়ে চলতে হয় নতুনত্বের আশায়। ভালো-খারাপ দুই ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেটে গেল একটি বছর। সমাজ-সভ্যতার সূচনাকাল থেকেই পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণের প্রথাগত রীতি চলে আসছে। আর এ ধারা এখনো বহমান।
২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালের আগমন, নতুন বছরের আগমনের কথা ভেবেই মনের ভেতর কতগুলো রঙিন স্বপ্ন লুকোচুরি খেলছে। যেখানে পুরনো সব খারাপ স্মৃতি মুছে, নতুন করে বাঁচার অভিপ্রায় জেগে উঠবে। যা নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মসংযমী, দৃঢ়চেতা হওয়ার মনোবল জাগাবে। নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনা, নতুন সৃষ্টি এবং অর্জন। আসন্ন ২০২৬ সালের প্রতিটি দিন যেন মানুষের কাছে আনন্দমুখর হয়ে ওঠে, সেই প্রত্যাশা সবার।