ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উল্লেøখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫’ প্রতিবেদনে দেশের স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫-এ পৌঁছেছে। যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্জন। বৈশ্বিক অনলাইন স্বাধীনতা কমলেও বাংলাদেশের ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার, শাটডাউন বন্ধে উদ্যোগ এবং ডেটা সুরক্ষায় উন্নত কাঠামো এই অগ্রগতিকে সামনে এনেছে। গতকাল শনিবার সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে মোদী জমানায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে ভারতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তলানিতে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, সরকারের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ ভারতের প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ভারত ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম স্থানে রয়েছে। গত বছর এই তালিকায় তারা ছিল ১৫৯তম।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত ফ্রিডম হাউসের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৪০ থেকে এ বছর বাংলাদেশের স্কোর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫Íযা দেশের গত সাত বছরের সর্বোচ্চ। এই অগ্রগতির ফলে অঞ্চলগতভাবে ভারত (৫১) ও শ্রীলঙ্কার (৫৩) সঙ্গে ব্যবধানও কমেছে। বিশ্বের ৭২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের ফলে দমনমূলক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ইন্টারনেট স্বাধীনতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট শাটডাউন বন্ধে নীতিগত সংশোধন, বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং সামগ্রিকভাবে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগগুলো প্রভাব ফেলেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন টেলিকম অধ্যাদেশ, সার্ভেইল্যান্স কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ পাসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরইমধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশকে ‘বিশ্বমানের’ বলে মূল্যায়ন করেছে। নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নয়ন, ডেটা সুরক্ষায় কঠোরতা, ইন্টারনেট শাটডাউন শূন্য নীতির প্রতিশ্রুতি এবং উদ্ভাবনবান্ধব নীতিমালায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ আরও উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত করার প্রত্যয়কে তুলে ধরছে। চলমান ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন উদ্যোগ, ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের মানোন্নয়ন এবং টেলিকম খাতে জটিল লাইসেন্স রেজিম সহজীকরণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাগরিক সেবার আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই দেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা সূচক ৫০ এর ওপরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।