ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট নিরসনে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে মূল নকশা অনুযায়ী আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এখন থেকে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন কাউন্টার উচ্ছেদ করে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার নগর ভবনে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সংক্রান্ত এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন নেতা এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
সভার মূল সিদ্ধান্তসমূহ : কাউন্টার পুনর্বিন্যাস: টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা ৬টি ব্লকের ১১০টি টিকিট কাউন্টার ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কাজে পরিবহন মালিক সমিতি ডিএসসিসি ও ট্রাফিক পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : টার্মিনালের বাইরে বা আশপাশে গড়ে ওঠা সকল অনুমোদনহীন কাউন্টার এবং টার্মিনালের অভ্যন্তরের অবৈধ দোকানপাট দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: মূল নকশা অনুযায়ী বাস চলাচলে ফ্লাইওভারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় উন্মুক্ত স্থানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিত্যক্ত বাসের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেলা হবে।
যাত্রীসেবা বৃদ্ধি: যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে একটি আধুনিক ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার, সুপরিসর বিশ্রামাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি ও নিয়ন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস টার্মিনালের পরিপূর্ণ ব্যবহারের বিকল্প নেই। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে সায়েদাবাদকে একটি আধুনিক ও ব্যবহার উপযোগী টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” তিনি এ বিষয়ে সকল অংশীজনের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।