এই রমযানে কুরআন জানার, বোঝার ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলমীর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রোববার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আশিয়ান গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর আশিয়ান মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রমযানের পবিত্র আবহে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিশিষ্টজন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন। মাহফিল জুড়ে ছিল ধর্মীয় আলোচনা, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিবেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান রমযানের গুরুত্ব, ঈমানের দৌলত, তাকওয়া অর্জন এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ঈমানের দৌলত দান করেছেন। তাঁর অফুরন্ত মেহেরবানীতে জীবন, সুস্থতা এবং পবিত্র রমযান মাসে পৌঁছার সুযোগ দিয়েছেনÑআলহামদুলিল্লাহ।” তিনি বলেন, রজব মাস এলেই মুমিনরা দোয়া করেÑ ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান’। আল্লাহ সেই দোয়া কবুল করে মুসলমানদের রমযানে পৌঁছার তাওফিক দিয়েছেন। কুরআনের আয়াতের আলোকে তিনি বলেন, রমযান মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছেÑযা হক ও বাতিলের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে। রোজা ফরজ করা হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য। তাকওয়া অর্জন হলে মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি মানুষকে ভালোবাসবে, অন্যায়-অত্যাচার থেকে দূরে থাকবে এবং সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কুরআনভিত্তিক সমাজে এমন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয় যে একজন নারী দীর্ঘ পথ একা ভ্রমণ করলেও আল্লাহ ছাড়া কারো ভয় করবে না। তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আহ্বান জানানÑএই রমযানে কুরআন জানার, বোঝার ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা করতে হবে। তিনি বলেন, “রোজা আল্লাহর জন্য, আর এর প্রতিদান তিনি নিজেই দিবেন।”

দোয়া পর্বে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এই দোয়া ও ইফতার মাহফিল কোনো ব্যক্তিগত প্রচার বা গৌরবের জন্য নয়; বরং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।

ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশিয়ান গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, এএএ লজিস্টিক পয়সাবাজারের চেয়ারম্যান অনামিকা ইসলাম ভূঁইয়া, আশিয়ান এডুকেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শফিউর রহমান, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল ইসলাম, মানবকণ্ঠের সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনে এমপি ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল, সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, বিভিন্ন অঙ্গনের পেশাজীবী, আশিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীসহ বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা। এতে ইফতার আয়োজন পরিণত হয় সর্বস্তরের মিলনমেলায়।