গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ইস্যুকৃত কার্ড ও গাড়ির স্টিকার নিতে হবে। এজন্য অনলাইনে আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

সোমবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ সংক্রান্ত চিঠি সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বিধি নিষেধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত “নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নীতিমালা ২০২৫" রয়েছে; যা মেনে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ করতে হবে।

সংবাদ সংগ্রহে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন হতে https://pr.ecs.gov.bd/ ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। সারাদেশের সাংবাদিকদের উক্ত পোর্টালে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। দাখিলকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করার পর আবেদনকারী সাংবাদিক অনলাইন হতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে হবে।

ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা হতে এবং সারাদেশের স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের সাংবাদিক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত অনলাইন আবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তাঁর কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুমোদন করবেন। এজন্য ইতোমধ্যে ( https://pr.ecs.gov.bd/) পোর্টালে রিটার্নিং অফিসারদের জন্য ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, দৈনিক, সাপ্তাহিক, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যেমন-রেডিও, টেলিভিশন, সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিউজ এজেন্সি, আইপি টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও নিউজ এজেন্সির সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার দেয়া হয়। এদের মধ্যে যেসব পত্রিকার নাম চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মিডিয়া লিস্টে রয়েছে; এছাড়াও দৈনিক পত্রিকার নিবন্ধন রয়েছে এবং নিয়মিত প্রকাশিত হয় সেসব পত্রিকার সাংবাদিকদের অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের সাথে সংযুক্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার অনুমোদন করতে হবে।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংবাদ সংগ্রহে ইচ্ছুক সাংবাদিকগণ আগামী ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত https://pr.ecs.gov.bd/ পোর্টালে প্রবেশ করে আবেদন সম্পন্ন করত হবে।

অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে যে ফরমেট ও সাইজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে:

আবেদনকারীর ছবি: 300x300 px, JPG / PNG, 200 KB এর মধ্যে হতে হবে (আবশ্যিক)।

স্বাক্ষর: 300×80 px, JPG / PNG, 200KB এর মধ্যে হতে হবে (আবশ্যিক)।

NID কার্ড: JPG/PNG/PDF, 200 KB এর মধ্যে হতে হবে (আবশ্যিক)।

প্রেস কার্ড / অফিস আইডি: JPG / PNG / PDF, 200 KB এর মধ্যে হতে হবে (আবশ্যিক)।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুমোদিত সাংবাদিকের তালিকা: সাধারণত 200 KB, সাংবাদিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 4 MB, নিবন্ধনের প্রমাণপত্র (যদি থাকে): JPG/PNG/ PDF, 200 KB এর মধ্যে হতে হবে (ঐচ্ছিক)।

PID / Accreditation কার্ড (যদি থাকে): JPG / PNG / PDF, 200 KB এর মধ্যে হতে হবে (ঐচ্ছিক)।

সাপোর্ট স্টাফ প্রয়োজন হলে পোর্টালে চাহিত সকল তথ্যসহ আবেদন করতে হবে। অসম্পূর্ণ তথ্য সম্বলিত আবেদন অনুমোদন করা হবে না।

(ছবি ও স্বাক্ষরের ব্যাকগ্রাউন্ড পরিষ্কার করলে কার্ডে স্বাক্ষর সুন্দরভাবে প্রদর্শিত হবে।) 300×80 pixel সাইজের স্বাক্ষর হতে হবে। স্বাক্ষর ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সাংবাদিক নির্দেশনাবলীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

১) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।

২) ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনক্রমেই গোপন কক্ষের ভিতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না:

৩) একইসাথে দুইয়ের অধিক মিডিয়ার সাংবাদিক একই ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং ১০ মিনিটের বেশি ভোটকক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না;

৪) ভোটকক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা, নির্বাচনি এজেন্ট বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে পারবেন না;

৫) ভোটকক্ষের ভিতর হতে কোনভাবেই সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না;

৬) ভোটকেন্দ্রের ভিতর হতে সরাসরি সম্প্রচার করতে হলে ভোটকক্ষ হতে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তা করতে হবে, কোনক্রমেই ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে বাঁধার সৃষ্টি করা যাবে না;

৭) সাংবাদিকগণ ভোটগণনা কক্ষে ভোট গণনা দেখতে পারবেন, ছবি নিতে পারবেন তবে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না;

৮) ভোটকক্ষ হতে ফেসবুকসহ কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা যাবেনা; কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকবেন; ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকগণ প্রিজাইডিং অফিসারের আইনানুগ নির্দেশনা মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

এছাড়া কোনো প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করতে পারবেন না; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না; নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রার্থী বা কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যেকোন ধরণের প্রচারণা বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা হতে বিরত থাকবেন;

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার জন্য নির্বাচনি আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন।

হাজার গণমাধ্যমের সাংবাদিক পাবেন ইসির পাস : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের জন্য প্রায় চার হাজার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ভোটের পাস দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির তালিকা অনুযায়ী, সরকার অনুমোদিত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৮১৮টি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়া হবে।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে ইসির জনসংযোগ শাখা।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার অনুমোদিত সকল হাউজের সাংবাদিক/স্টাফদের সাংবাদিক কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেবে কমিশন। ইতোমধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ইসির তালিকা অনুযায়ী টিভির অনলাইন পোর্টালের ১৮টি; দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টাল ১২৯টি; আঞ্চলিক অলাইন মিডিয়া ৬১টি; অনলাইন নিউজ পোর্টাল আছে ২৬৩টি।

এছাড়া দৈনিক সংবাদপত্র (১৩৯৭টি, অর্ধ সাপ্তাহিক তিনটি, সাপ্তাহিক ১২৩১টি, পাক্ষিক ২১৫টি, মাসিক ৪৫১টি, দ্বিমাসিক ৯টি, ত্রৈমাসিক ৩৭টি, চতুর্থমাসিক একটি, ষান্মাসিক ২টি, বার্ষিক ২টি) রয়েছে মোট ৩ হাজার ৩৪৭টি।

এর মধ্যে ঢাকায় ১৪২২টি ও ঢাকার বাইরে ১৯৩৫টি পত্রিকা। সব মিলিয়ে ৩৮১৮টি গণমাধ্যমকে ভোটের পাস দেবে ইসি।