• আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান চীনের
  • বিপজ্জনক পরিণতি প্রশ্নে ট্রাম্পকে সতর্ক করলো কাতার
  • তীব্র যুদ্ধ লড়তে পারবে ছয় মাস ধরে ইরান
  • তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা

মুহাম্মদ নূরুল হুদা : শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলায় ২১ জন সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজনসহ অন্যত্র এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইরানে সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে চীন আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেষ্টার বিরুদ্ধে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এদিকে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের বাহিনী বর্তমান গতিতে ছয়মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ লড়তে পারবে। ইরান ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবং কুয়েতের আল আদিরি ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই প্রথমবারের মতো রাজধানী তেহরানে তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে হানাদার ইসরাইল। আল-জাজিরা, এএফপি, ইরাকি নিউজ, ফারস নিউজ, গালফ নিউজ, সিএনএন।

শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেব না: ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান।’ ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। প্রতিবেশী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরান সুসম্পর্ক চায়, এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রু দেশগুলো বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আসা হামলার জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ রয়েছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা ইরানকে আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে ও অত্যন্ত জোরালোভাবে এর জবাব দেওয়া হবে। মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের মাটি ও পানি রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান শত্রুকে তার এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না।

মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংসাত্মক হামলায় ২২০ সেনা হতাহতের দাবি ইরানের

গত ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ইরানের খাতামুল আম্বিয়া (সা.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ দাবি করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের (আইআরআইবি) ওয়েবসাইট ‘পার্সটুডে’ এ তথ্য জানিয়েছে। এই মুখপাত্র আরও বলেছেন, এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) অবিস্থত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ধ্বংসাত্মক আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর বহু সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছে এবং তাদের অবকাঠামো ও সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো হলো- মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরে হামলা ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আল-জাফরা মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ২০০ জন হতাহত হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তরে মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা করা হয়েছে। সেখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ইরান বর্তমান আকার ও মাত্রার যুদ্ধ আরও ‘অন্তত’ ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন কর্মকর্তা। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।’

ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর সেখানে বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বা ইরাকি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, শনিবার রাতে উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহর লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় এই হামলা চালানো হয়। এর আগে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল যে তারা একই শহর লক্ষ্য করে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় বেশ কিছু ড্রোন হামলা করেছে।

কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস দাবি করেছে, কুয়েতের আল-আদিরি বিমানঘাঁটিতে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে। রবিবার ইরানের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। আইআরজিসির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত মার্কিন হেলিকপ্টার মেরামত কেন্দ্র, বিশাল জ্বালানি ট্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে অত্যন্ত সফল হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

এর আগে কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করেছে এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “হামলার পর বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে এখনও ঘন কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে, যা অনেক দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের ঘাঁটিতে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। এর জেরে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী।

হরমুজ প্রণালি হামলায় ডুবলো আমিরাতের টাগবোট

ড্রোন হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী একটি টাগবোট ডুবে গেছে। এ ঘটনায় টাগবোটে থাকা ৭ জন নাবিকের মধ্যে ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবে যাওয়া টাগবোটটির নাম মুসাফা। যে ৩ জন নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন তারা সবাই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৬ মার্চ ঘটেছে এ ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, টাগবোটটিতে ‘বিস্ফোরক’ কোনো কিছুর হামলা হয়েছিল। এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, টাগবোটটিতে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। তবে এ ব্যাপারে এখনও আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। প্রসঙ্গত, টাগবোট হলো ছোটো এবং শক্তিশালী একপ্রকার সামুদ্রিক জাহাজ, যেগুলো অন্যান্য বড় জাহাজ, অচল জলযান এবং ভাসমান স্থাপনাকে ধাক্কা দিয়ে বা টেনে গন্তব্যে নিয়ে যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছিল ইরান।

এবার ট্রাম্পকে সতর্ক করে যা বললেন কাতারের আমির

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি। কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, টেলিফোনে দুই নেতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

কাতারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশে ইরানের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় কাতারের আমির চলমান সংকট নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এর পরিণতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে সংঘাত এড়াতে রাজনৈতিক সমাধানের পথকে সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

ওয়াশিংটনের স্বীকারোক্তি

ইরানের জ্বালানি ও তেল লুট করাই মার্কিন-ইসরাইলী যৌথ আগ্রাসনের লক্ষ্য বলে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে।

ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং মার্কিন জাতীয় জ¦ালানি পরিষদের নির্বাহী পরিচালক জেরাড আইজেন ফক্স নিউজ চ্যানেলে এক নজিরবিহীন স্বীকারোক্তি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে ওয়াশিংটন ইরানের জ¦ালানি তেল-সম্পদকে পুরোপুরি ইরানিদের হাত থেকে বের করে নিতে চায়। এভাবে আইজেন এটা ফাঁস করলেন যে ইরানে আগ্রাসনের পেছনে ওয়াশিংটনের আসল লক্ষ্য হল ইরানের জাতীয় সম্পদ লুট করা যাতে নিজের ও মিত্রদের অর্থনৈতিক ও জ¦ালানি স্বার্থ অবৈধভাবে হাসিল করা নিশ্চিতভাবে সম্ভব হয়।

ইরানি হামলা শুরুর পর ইসরাইলে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইসরাইলী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৫৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আহত ও অসুস্থদের সংখ্যা এখন দুই হাজারের কাছাকাছি।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ৪২ জন মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন এবং ৭০ জনের চোট সামান্য। আহতদের একটি বড় অংশ সরাসরি সংঘাতের চেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপদ স্থানে নামার সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

৬ মাস লড়তে পারবে ইরান

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, দেশটির বাহিনী বর্তমান গতিতে ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘তীব্র যুদ্ধ’ লড়তে পারবে। নাইনি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত ‘প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে আগামী দিনে ‘উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র’ ব্যবহার করবে।

আইআরজিসি ইরানের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী একটি সংস্থা। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি, শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও এ বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ইসরাইলী হামলায় জ্বলছে তেলের ডিপো তেহরানের রাস্তায় আগুনের নদী

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী তেহরানজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর সব রাস্তা যেন ‘‘আগুনের নদীতে’’ পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত রাস্তার পাশের সব ড্রেন বর্তমানে দাউ দাউ করে জ্বলছে। ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরানের’ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের একটি রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে। পুরো রাস্তার পাশ ঘেঁষে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি ডিপোতে ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংঘাত আরও তীব্র হবে ঘোষণা ইসরাইলের

ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরাইলী হামলা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হবো। ইসরাইলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জানি, যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা অর্জনের জন্য আমাদের কতটুকু সময় প্রয়োজন। যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যে, আরও এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন কোনও ধাপে যেতে হয়।