গণভোটে ‘না’ ভোট নিশ্চিত করতে পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ও নতুনভাবে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাওয়া গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠেছে-এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ারে সেই ঐক্য ভেঙে দেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনে ১১ দলীয় জোট ও এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজা উদ্দিনকে পরিচয় করিয়ে দেন আসিফ মাহমুদ।
১২ ফেব্রুয়ারিকে ‘আরেকটি ঐতিহাসিক দিন’ উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল ছিল, তেমনি ১২ ফেব্রুয়ারি আবারও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দিন। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট আমরা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। আর ১২ ফেব্রুয়ারিতে রক্ত নয়, একটি সিলের মাধ্যমেই সেই অর্জন রক্ষা করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের মানুষ যে নিপীড়ন, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারই নতুন সংস্করণ গত ১৭ মাসে আবার দেখা গেছে। গ্রাম থেকে শহর, বাজার থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী রাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে এবার রাজপথে নয়, ব্যালটের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দেশের মুক্তিকামী ১১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েছে। এখন সময় ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।”
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কার মার্কা কী সেটা দেখার সময় নেই। দেশের মুক্তি ও ভবিষ্যৎ যে প্রার্থী ও জোট নিশ্চিত করতে পারবে, জনগণ তাদেরই ভোট দেবে।”
বোয়ালখালী আসনে শাপলাকলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “এই একটি ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সুশাসন, সংস্কার ও প্রকৃত সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে যাবে।”
সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে যারা সংস্কারের কথা বলেছে, সময় এলে তারাই নীরব হয়ে গেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমে আগ্রহী গোষ্ঠী গণভোটে ‘না’ ভোটকে জিতাতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। “৫ আগস্ট যেভাবে আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আবারও তাদের পরাজয় নিশ্চিত করব, -বলেন তিনি।
এর আগে সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত কিশোর মো. ইশমামুল হক চৌধুরীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু হয়। কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের আসিফ মাহমুদ বলেন, “ইশমামুল হকসহ জুলাই শহিদরা যে স্বপ্নের জন্য জীবন দিয়েছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।