আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি হাফেজদের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ বিজয়ী চার বাংলাদেশি হাফেজকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্রথম স্থান এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাঁদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

তিনি বলেন, মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে। এটি গোটা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গতকাল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের প্রতি দ্রুত তাঁদের সংবর্ধনা ও যথাযথ সম্মাননার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয়ী সব হাফেজকে নিয়ে সম্মানজনক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কুরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁদের ন্যায্য অধিকার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককে সুযোগ পেলে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অসাধারণ অর্জনকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ অর্জন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।”

এবারের আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারিস্থ’ সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফয মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী প্রমুখ।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফায়েজ বিন মোহাম্মদ মোখতার এবং হাজওয়ান বিন হাসনল উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তরিক ও খোলামেলা মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এ সময় বাংলাদেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মতবিনিময়কালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে এবং সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।