• মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালকরা পাবে ৫ লিটার
  • পাইপলাইনে ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল

আপতত জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলছে সরকার। এছাড়া আগাম সংকট তৈরী যাতে না হতে পারে সেজন্য রয়েছে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি চলছে জ¦ালানি তেল । সংকট হতে পারে এমন গুজবে জ¦ালানি তেল নেয়ার জন্য প্রতিদিনই পেট্রোলপাম্পে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে গ্রাহকরা। পেট্রোলপাম্পে নিয়মিত তদারকি চলছে। রেশানিং পদ্ধতির উন্নতিও হচ্ছে। আগে মোটরসাইকেল আরোহীরা পেতো ২ লিটার এখন দেয়া হচ্ছে ৫লিটার করে জ¦ালানি তেল। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে এসেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ,প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশে কোনও সংকট নেই।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং অন্যটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেখান থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ১২ মার্চ আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দেওয়া দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব লাইনের বেশিরভাগই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির। এই ধরনের যানবাহনে মূলত অকটেন ও পেট্রোল ব্যবহার হয় এবং এই দুই জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। মানুষের মধ্যে জ্বালানি পাওয়া যাবে না বা দাম বাড়তে পারে— এমন উদ্বেগ থেকেই অনেকে আগেভাগে জ্বালানি নিচ্ছেন, ফলে পাম্পে ভিড় তৈরি হচ্ছে।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, পেট্রোল প্রায় পুরোটাই দেশে পরিশোধিত হয়। অকটেনের বড় অংশও দেশেই উৎপাদন করা হয়, যদিও কিছু অংশ আমদানি করতে হয়। অন্যদিকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা তুলনামূলক বেশি।

ভারতের সঙ্গে পাইপলাইন চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার টন জ্বালানি আসার কথা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে এসেছে এবং বাকি অংশও ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই চুক্তি প্রতি বছর নবায়ন হয় এবং বর্তমানে এর মেয়াদও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও আপাতত দেশে জ্বালানি বা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সম্প্রতি ১১৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, পরে তা ১০৬ ডলারে নেমে এসেছে। তবুও জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে এমন কোনও সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না। রমজান ও ঈদ সামনে রেখে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

পণ্য পরিবহন খাতে চরম ভোগান্তি নিরসনের দাবী ক্যাবের :

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে সাধারণ ভোক্তা, যানবাহনচালক ও পণ্য পরিবহন খাতে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর যেসব পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাবের তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজের স্বাক্ষারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর যেসব পাম্পে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যানবাহনচালকদের। অনেক চালক প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে একাধিক পাম্প ঘুরেও ব্যর্থ হচ্ছেন।

৫ লিটার তেল নিতে পারবেন মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালকরা :

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং আতঙ্ক নিরসনে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মহানগর এলাকায় চলাচলকারী রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলগুলো দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবে।

মঙ্গলবার বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানির সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে জ্বালানি দেশে আসছে। জনগণের চাহিদা মেটাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল রাখতে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেয়ার সময় তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য সম্বলিত ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলকভাবে সংগ্রহ করতে হবে।পরবর্তীবার তেল নেয়ার সময় আগের বার পাওয়া সেই মূল রশিদ বা বিলের কপি স্টেশনে জমা দিতে হবে।

মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্য রাইড শেয়ারিং অ্যাপের সাথে যাচাই করার পরই কেবল তেল সরবরাহ করা হবে।

বিপিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রতি মাসের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামেই তেল কেনাবেচা করতে হবে। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়া আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।দেশের সব ভোক্তা ও ডিলারদের এই নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি কর্তৃপক্ষ।

৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে ভারত থেকে :

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। মঙ্গলবার এই জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আসছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে এই ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই আমদানির ফলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে গত রবিবার জ্বালানি সংকট মেটাতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন দিয়ে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের তৎপরতার অংশ হিসেবেই ৫ হাজার টনের প্রথম চালানটি দেশে আসছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও চীনা বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌর বিদ্যুতের বিষয়ে কথা বলছেন মন্ত্রী। বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। আরও কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।ধ

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।