আজ ৮ মার্চ, রোবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস যথাযথ মর্যাদা এবং নানা কর্মসূচিতে উদযাপিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
এমন এক সময় বাংলাদেশ নারী দিবস উদযাপিত হচ্ছে; যখন নারীর নিরাপত্তার ব্যাপারে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও নারীর প্রতি নৃশংসতা থামছে না। বরং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীর প্রতি নৃশংসতার খবর পাওয়া গেছে। কন্যা শিশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হচ্ছে; যা শুনলে গা শিউরে ওঠে রীতিমত।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬-এর প্রাক্কালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘরে-বাইরে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সব বয়সি ও সবগোষ্ঠীর নারীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নরসিংদীর মাধবদী, পাবনার ঈশ্বরদী ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এর প্রমাণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য উল্লেখ করে জোটটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন কন্যাশিশু ও ১ হাজার ৫৭৪ জন নারী রয়েছেন। গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮৬ জন, যার মধ্যে ৫৪৩ জনই শিশু।
‘আমরাই পারি’ জোট জানায়, একটি মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে উগ্রবাদী ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়াচ্ছে। এতে অপরাধীদের দায় আড়াল করার প্রবণতা বাড়ছে এবং সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মতো একটি বিপজ্জনক মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে সংগঠনটি সরকারের প্রতি সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি জানিয়েছেÑ নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নির্যাতনকারী ও অপরাধীদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা। রাষ্ট্রকে নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করা।
বিবৃতিতে সই করেছেনÑ সুলতানা কামাল, শাহিন আনাম, শীপা হাফিজা, জিনাত আরা হক, ফওজিয়া খোন্দকার ইভা, রেখা সাহা, মাহবুবা বেগম হেনা, সেলিনা আহমেদ, সাহিদা পারভীন শিখা, কাজী সুফিয়া, বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, জিয়াউল আহসান, রাবেয়া বেগম, হাসিনা বেগম নীলা, লায়লা আরজুমান্দ বানু, রিজিয়া পারভীন, স্বপন কুমার বর্মণ, ফারহানা হাফিজ, শাহনাজ সুমি, মাহফুজা হক নীলা, ইলিরা দেওয়ান, ড. নীলিমা আখতার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রয়েল, এডভোকেট বশির আহমেদ চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন মনি, আফসানা বিনতে আমিন, ইশরাত জাহান ঊর্মি, ইরফাত আরা ইভা, শায়লা সুলতানা, অনিমা কুজু, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া পারভীন, নুসাইফা আহসান।
এদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায় গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়াকে 'গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী' সম্মাননায় ভূষিত করতে যাচ্ছে। মার্চ রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অদম্য নেতৃত্ব প্রদান এবং গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়া অসামান্য অবদান রাখায় এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে নুর বানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী ক্যাটাগরিতে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন- এমন নারী ক্যাটাগরিতে মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে পুরস্কৃত হচ্ছেন।