এবার আধুনিক সুবিধা সম্বলিত স্মার্ট ট্রাফিক পুলিশ বক্স হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। শুরুতেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নিজস্ব তহবিল থেকে ৫টি পুলিশ বক্স নির্মাণ করছে ঢাকা উত্তরের ৫টি স্থানে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) চাহিদার বিপরীতে ডিএনসিসি এই ট্রাফিক পুলিশ বক্সগুলো নির্মাণ করে দিচ্ছে। এর আগে ডিএমপি ৩০টি বক্স নির্মাণ করে দেয়ার জন্য ডিএনসিসিকে অনুরোধ জানায়। অর্থাভাব ও প্রয়োজনীয় জায়গা না পাওয়ায় ডিএনসিসি আপাতত ৫টি পুলিশ বক্সই নির্মাণ করে দিচ্ছে ডিএমপিকে। ডিএনসিসি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
জানতে চাইলে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, ঢাকা উত্তরের জন্য ৩০ টি ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মান করে দেয়ার জন্য ডিএমপি অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে পর্যায়ক্রমে ডিএমপির জন্য পুলিশ বক্সগুলো নির্মাণ করে দেবো। আমাদের পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তার সাথে বক্সগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাও পাওয়া যাচ্ছেনা। তাই, ধাপে ধাপে এই পুলিশ বক্সগুলো নির্মাণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সুত্র জানায়, রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। সেগুলো আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নয়। তাই, ডিএমপির পক্ষ থেকে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ করে দেয়ার জন্য ডিএনসিসিকে অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধ পত্রে ৩০ টি পুলিশ বক্সের চাহিদা দেয় ডিএমপি।
সূত্র জানায়, চাহিদার বিপরীতে পুলিশ বক্সগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। এজন্য কনসালটেন্টও নিয়োগ দেয়া হয়। আধুনিক পুলিশ বক্সের নকশা ও বাজেট প্রণয়ন শেষে এখন বক্স নির্মাণের কাজ চলছে। সূত্রের দাবি, বক্সগুলো স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছেনা। তার সাথে রয়েছে অর্থাভাবও। যার কারণে ধাপে ধাপে এই বক্সগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
সূত্র মতে, শুরুতেই ৫ টি পুলিশ বক্স নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে ডিএনসিসি ও ডিএমপি। এখন এসব স্থানে নির্মান কাজ চলছে। স্থানগুলো হচ্ছে, আগারগাঁও ক্রসিং, মিরপুর-১৩ হারমান মেইনার স্কুলের পাশে, গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে, সোনারগাঁও ইন্টারসেকশন ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে সামনে। সুত্র জানায়, এই ৫ টি ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে এক কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৭৯ টাকা চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই ৫ টি ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মান করে দিচ্ছে। চলতি মাসেই আগারগাঁও ক্রসিং ট্রাফিক পুলিশ বক্সের উদ্ভোধন করা হবে বলে সূত্রটি জানায়।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ রোববার তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, আমাদের পুলিশ বক্সগুলো এরকম ডিজাইনের হচ্ছে। নিচ দিয়ে পথচারীদের হাটার রাস্তা ঠিক রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। এই মাসেই আগারগাঁও এর পুলিশ বক্সটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকার সবগুলো পুলিশ বক্স এরকম করছি। ঢাকার পুলিশ বক্সগুলো এখন নতুন ডিজাইনে গড়ে উঠছে জেনে ডিএনসিসি প্রশাসকের পোস্টে নানাজন নানা ধরনের মতামত ব্যক্ত করেণ। প্রশাসকের পোস্টে বলা হয়, এই নতুন ডিজাইনের পুলিশ বক্সে পথচারীদের চলাচলের সুবিধা বজায় রেখে নিচের অংশ খোলা রাখা হয়েছে। নতুন পুলিশ বক্সগুলো ২০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৮ ফুট প্রস্থ ও ৮ ফুট উচ্চতার কনটেইনার আকারে নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোতে যথাযথ ইন্সুলেশনসহ আধুনিক সুবিধা যেমন টেবিল, ৬টি চেয়ার, মিনি টি টেবিল, পর্যাপ্ত আলো এবং এয়ার কন্ডিশনার থাকবে। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, বক্সগুলোতে গ্রে ও ব্ল্যাক ওয়াটারের জন্য এসটিপি স্থাপন করা হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত পানি বাগান পরিচর্যায় ব্যবহার করা হবে। ধাপে ধাপে ঢাকা শহরের সব পুলিশ বক্স এই নতুন নকশা অনুযায়ী পুনঃনির্মাণ করা হবে।
ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) খোন্দকার মাহবুব আলম গতকাল সোমবার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, বাজেট সাপেক্ষে এই পুলিশ বক্সগুলো নির্মাণ করা হবে। আপাতত: ৫ টির নির্মাণ কাজ শেষ। এখন উদ্ভোধনের অপেক্ষা। তিনি জানান, প্রতিটি পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত মহিলা ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানি দূষণ রোধের নিমিত্তে বায়োলজিক্যাল সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করা হচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব এই ট্রাফিক পুলিশ বক্সগুলো ব্যবহার করে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা নানা ভাবে উপকার পাবেন।