মেডিকেল বোর্ড চাইলেই বিদেশে চিকিৎসা

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে। গতকাল মঙ্গলবার বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের আপডেট জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এমনটিই জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মসজিদ মন্দির, গির্জাসহ সর্বত্র বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় মোনাজাত করা হয়। সকলেই বলছেন, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসবেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানতে উদগ্রীব দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশ বিদেশের কোটি কোটি মানুষ। জানা গেছে, তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নতি না হলেও রয়েছে অপরিবর্তিত। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটলে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়া হতে পারে।

অবস্থা অপরিবর্তনীয় : বেগম খালেদা জিযার সবশেষ আপডেট জানাতে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত যৌথ মেডিকেল টিমের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তার চিকিৎসার তদারকি করছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সব বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের ন্যায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানও যথাযথ সহযোগিতা করছেন। হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো। তার প্রতি ভালোবাসা ও দোয়ার কারণেই হয়ত এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি। সেজন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো বা কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারসহ দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি।

বিদেশে চিকিৎসা : অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মঙ্গলবার ওনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আসবেন এবং তাকে দেখেবেন। সবগুলো রিপোর্ট ও সার্বিক অবস্থা দেখার পরে ওনাকে যদি ট্রান্সফারেবল মনে হয়, ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখন যথাযথ সময়ে ওনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে, রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, বেগম খালেদা জিয়া সে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে গুজব ছড়াচ্ছে, সেই গুজবে কেউ কান দেবেন না। তারেক রহমানসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ সবাই সার্বক্ষণিক বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর রাখছেন।

কাঁদলেন চিকিৎসক : খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গতকাল দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে তাকে কান্না করতে দেখা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আপনারা ধৈর্য ধরুন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানিতে আবারও খালেদা জিয়াকে সুস্থ দেখতে পাব ইনশাআল্লাহ। তবে দেশের মানুষের অক্লান্ত ভালোবাসা প্রমাণিত। এজন্য আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ধৈর্য ধারণের জন্য অনুরোধ করেছেন। কাজেই আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি দোয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নিরাপত্তা জোরদার : এদিকে সোমবার রাত থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দুই দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে রয়েছে পুলিশের উপস্থিতি। সংশ্লিষ্ট লোকজন ছাড়া অন্যদের ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাত ২টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। পাশাপাশি আশপাশে কাউকে ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে, হাসপাতালের আশপাশে ভিড় ঠেকাতে ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে

দায়িত্ব নিয়েছে এসএসএফ : জানা গেছে, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার জন্য ভিভিআইপি বিশেষ নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা হাসপাতালে ডিউটি শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার চিকিৎসা চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলো।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি বিশেষ নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে হাসপাতালে এসে ডিউটি শুরু করেছে।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় এক ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয় এবং জাতির কাছে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, সভায় খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাসপাতালে তার নির্বিঘ্ন চিকিৎসা, প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, তার নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা এবং উচ্চ মর্যাদা বিবেচনায় তাকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকরের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হাসপাতালে মহাসচিব : খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে সোমবার গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে তারা মেডিকেল টিমের সঙ্গে সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মির্জা ফখরুল।

চিকিৎসায় যুক্তরাজ্য বিশেষজ্ঞরা : রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার লক্ষ্যে চীনের পর এবার যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ঢাকায় আসছে। আজ বুধবার তারা ঢাকায় আসবেন বলে জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সোমবার চীনের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। একইভাবে বুধবার যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে তাকে দেখবেন। তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

দোয়া ও খাবার বিতরণ : এদিকে খালেদা জিয়া’র দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশের বিভিন্নস্থানে দোয়া মাহফিল অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে তার সুস্থতা কামনায় মিলাদ মাহুফলের আয়োজন করা হয়। গুলশান মসজিদে আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিল। একই সঙ্গে হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে গুলশান আজাদ মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে গুলশান আজাদ মসজিদের প্রাঙ্গণ, বনানী কবরস্থান এবং গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদের সামনে গরীব, পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ বাসভবনে কোরআনখানি ও সাদাকায়ে জারিয়া উপলক্ষে ছাগল জবাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক। বহু সংকটময় সময়ে তিনি জনগণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো দেশত্যাগ করেননি। নানা ষড়যন্ত্র তাকে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে চাইলেও তিনি অদম্য মনোবল নিয়ে মানুষের পাশে থেকেছেন। আজ বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতায় দলের ভেতর-বাইরের সাধারণ মানুষ গভীরভাবে ব্যথিত। মানুষের এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দৃঢ়তার কারণেই বাংলাদেশ ভারতের দখলে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষী, বেগম জিয়া একজন দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক নেত্রী। বিগত ১৫ বছর যেভাবে দেশটা ভারতের দখলে গিয়েছিল, তার আপসহীন রাজনীতির কারণেই তা অনেক আগে যেতে পারেনি। উনার দৃঢ়তায় তা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে আকুতি : ‘নিশ্চয় এ আধার কেটে যাবে। এত এত মানুষের দোয়া, ভালোবাসা বিফলে যেতে পারেনা’। ‘এমন মমতাময়ী অভিভাবক বাংলাদেশ আর কখনো পাবে কিনা জানি না। যিনি নিজের সন্তানের চেয়ে দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। প্রতিপক্ষকে কখনো খারাপ ভাষায় সমালোচনা করতেন না। তিনি নিজের জন্য কখনো ভাবতেন না। আজ তিনি মৃত্যু শয্যায় শায়িত। দেশের মানুষ আপনার জন্য দোয়া করছে। আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন। আমিন’। ‘এই ভদ্রমহিলা নিজের স্বামী, সন্তান সবাইকে হারিয়েছেন। বহু বছর ধরে আরেক পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছ থেকেও বঞ্চিত। বাংলাদেশের মানুষকেই তিনি তার পরিবার মনে করেন। পুরো দেশকে তিনি নিজের হৃদয়ের মানচিত্রে এঁকে রেখেছেন। গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার তাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। অন্ধকার কারাগারে রেখে তাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করা হয়েছে’।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি দলমত নির্বিশেষে অগনিত মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পরম সৌভাগ্যের বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া করে বলেন, নানা বিভক্তি ও বিভাজনের এ দেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এ ক্ষেত্রে অনন্য। দেশপ্রেম ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায় সবার কাছে বিশেষ সম্মানের ও শ্রদ্ধার আসন অলংকৃত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই মুহূর্তে গোটা জাতি তাকে আন্তরিক দোয়ায় স্মরণ করছে। দলমত নির্বিশেষে অগণন মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া সত্িযই পরম সৌভাগ্যের। পোস্টের শেষে আজহারী বলেছেন, আমি দেশের তরে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করা ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এ মহিয়সী নারীর রোগমুক্তি ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করুন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এভাবেই খালেদা জিয়ার সুস্থতায় প্রার্থনা করা হয়। এর পাশাপাশি মসজিদ মন্দির, গির্জাসহ সর্বত্র বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় মোনাজাত করা হয়। সকলেই বলছেন, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসবেন।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে পুরো দেশই ব্যথিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো হৃদয় নেই, যেখানে আজ খালেদা জিয়ার জন্য অশ্রু ঝরেনি। হাত তুলে প্রার্থনা করা হয়নি। আলাল বলেন, খালেদা জিয়াকে ঘিরে যেন গোটা দেশের বাতাসও আজ কাঁদছে। দেশের বাইরে যেখানেই বাংলাদেশিরা আছেন, সেখানেও মানুষ তার জন্য দোয়া করছেন। এমন একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি তার এই অবস্থায় মর্মাহত নন।

নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে তার অবস্থা সংকটময় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) নিয়ে নিবিড়ভাবে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়া চিকিৎসা চলছে।