সরকারি আদেশ অমান্য করে সচিবালয়ে কর্মরত চাকরিজীবীদের ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলনকারীদের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টায় তাদের আটক করা হয়। পুলিশ হেফাজতে নেয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি বাদিউল কবীর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সহ-সভাপতি শাহিন গোলাম রাব্বানী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজামুদ্দিন এবং অজ্ঞাত আরেকজন।

এর আগে দুপুর ৩টার দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা সচিবালয়ের ভেতরে বাদামতলায় একে একে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ৩টা ২০ মিনিটে পুলিশের বেশকিছু সদস্য আন্দোলনকারীদের সমাবেশস্থল ঘিরে রাখেন এবং মিছিল বা স্লোগান না দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের অনুরোধ জানান।

জানা গেছে, ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছে সচিবালয়ে কর্মরত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত বুধবার অর্থউপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করে দাবি আদায়ও করে নিয়েছেন তারা। তবে এখনও সরকারি আদেশ জারি হয়নি। তাই ফের আন্দোলনে নেমেছে কর্মচারীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবারও সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন করেন তারা। এবসসময় নানা স্লোগানও দেয়া হয়। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সরকারি আদেশ জারি না হলে, আগামী সপ্তাহ থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।

এর আগে, গত বুধবার একই দাবিতে প্রায় ৬ ঘণ্টা অর্থ উপদেষ্টাকে আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশি কড়া পাহারায় তিনি রাত আটটার দিকে বের হন। এর আগে, আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হবে এমন বার্তা পাঠানো হয়।

কিন্তু আন্দোলনকারীরা তা মানেননি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উপদেষ্টাকে মুক্ত করতে বুধবার রাত ৮টার কিছু আগে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা বাঁশি বাজিয়ে পুলিশকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রাত ৮টা ১২ মিনিটে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তখন আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আগামী সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি হবে এমন বার্তা পাঠানো হয়।

আন্দোলনকারীরা সেটি মানেননি। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় দাবি মেনে জিও (সরকারি আদেশ) জারি করা হবে মর্মে প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সেটি কার্যকরের লক্ষ্যে গতকালও আন্দোলন করে আসছিল কর্মকর্তারা। বিকালে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে তুলে নেয় পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।