আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ের লক্ষ্যে সংগঠনের রুকন সহ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক গুণাবলী অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইকামাতে দ্বীনের কাজে আপসহীন থাকার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

গতকাল শনিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি রিসোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত ২ দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা-১৯ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আফজাল হোসাইনের সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার। উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম ও মাওলানা আব্দুর রউফ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি হাসান মাহবুব, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তৌহিদ হোসেন, কবিরুজ্জামান, এডভোকেট মীর আতাউর রহমান, ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রহিম মজুমদার ও ইমদাদুল হক এবং জেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান জীম প্রমূখ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মোমিনের প্রকৃত সাফল্যই হচ্ছে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তষ্টি অর্জন করে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করে জান্নাত লাভ। মূলত, যারা কুরআন থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুযায়ী জীবন যাপন করে না তারা হতভাগ্য। তারা দুনিয়াতে সংকীর্ণ ও অশান্তিপূর্ণ জীবন কাটাবে এবং কেয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উঠবে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত আল্লাহ দেওয়া জীবনবিধান অনুসরণ করে নিজেকে এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানো।

তিনি বলেন, আল্লাহর পথে জানমাল দিয়ে জিহাদ করা আমাদের প্রত্যেকের ওপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে অবৈধ কামনা-বাসনা অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। বিপদে ধৈর্যহারা হলে চলবে না। আল্লাহর পথে বেশি বেশি ব্যয় করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। নেক আমলের মাধ্যমে জান্নাতে লাভের প্রবল আকাক্সক্ষা নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য শাহাদাতের তামান্না নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য নির্বাচন যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। ভোট চাইতে হবে প্রতীকের পক্ষে; ব্যক্তির পক্ষে নয়। তিনি দেশে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সকলকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানান।

অধ্যাপক মুজিব বলেন, দ্বীন বিজয়ের পূর্বশর্ত হচ্ছে দাওয়াতি কাজ সম্প্রসারণ। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না বরং প্রত্যেক ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি ও যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অর্জন করতে হবে। একই সাথে বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা। সাধারণ মানুষের সমস্যাবলী চিহ্নিত করে সেসবের সাধ্যমত সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই দ্বীন বিজয় সহজ হতে সহজতর হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায় এবং জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে অধ্যবসায়ী হতে হবে। যা জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য অনুসঙ্গ।

মাওলানা আব্দুল জাব্বার বলেন, রুকনদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে এবং একই সাথে কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী সময় নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। তাহলে ইসলামী আন্দোলন গতিশীল হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তাই আমাদের ঘরে বসে থাকলে চলবে না বরং সকল আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয় করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।