প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি ঠেকানোর মতো কোনো শক্তি নেই। গতকাল শুক্রবার সকালে মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। শফিকুল বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেইÑকোনো শক্তি নেই নির্বাচন প্রতিহত করার। সব দলের অংশগ্রহণে এবার সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আন্ত: কলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথাগুলো বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সরকারের প্রেস সচিব বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সম্পর্কে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁরা নির্বাচন করতে চাইলে, সেটি তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে ইতিহাস বলবে, জাতীয় পার্টি ভয়ংকর রকমভাবে স্বেরাচারের দোসর ছিল। আওয়ামী লীগ যে সব অপকর্ম করেছে, তা করেছে জাতীয় পার্টির সহযোগিতায়।’

চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসা ‘মাইনাস ফোর ফর্মুলা’ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, যারা মাইনাস ফোর ফর্মুলার কথা বলছে, তাঁরা স্বৈরাচারের দোসরের দল থেকেই এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই মাইনাস ফোরের কোনো কথা বলা হয়নি। যিনি মাইনাস হয়েছেন, তিনি হত্যাযোগ্য অপরাধের কারণে মাইনাস হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরও বলেন, জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটা আমাদের শপথ, আমাদের অঙ্গীকার। চব্বিশের জুলাইয়ে আন্দোলনে দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী-জনতাকে হত্যা করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রমানিত হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের গণ হত্যার চিত্র। আমাদের এখন মূল লক্ষ্য হত্যাকারীদের এদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করা।

তিনি বলেন, ২৪ এর গণহত্যার শহীদের মায়েরা আজও কাঁদছে বিচারের দাবিতে। তাদের চোখের জলে কাঁদছে বাংলাদেশ। তাই বিচারের রায় যতদ্রুত কার্যকর হবে ততই আমাদের সফলতা। আমরা চাই পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এদেশে বিচারের রায় কার্যকর করবে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে শান্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের, মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন, জেলা ক্রীড়া অফিসার বিএম সাজিন ইসরাত ও ক্রীড়া সংগঠক বারিক ননজাম বারকি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন ও জেলা অফিসের বাস্তবায়নে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। টুর্নামেন্টে মাগুরার ৪ টি উপজেলার ৯ টি কলেজ ফুটবল দল অংশ নিয়েছে।