রাত ১০টা পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের ৭ জন এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮ জন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বিজয়ীরা হলেন, সিরাজগঞ্জ–- ৪ আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (জামায়াত),কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, চর রাজিবপুর এবং চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ৭৮ হাজার ৯৪৩ বিজয়ী হয়েছেন দাড়িপাল্লার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ জয়ী হয়েছেন। কুমিল্লা-৪ আসনে বেসরকারীভাবে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। রংপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী। রংপুর-৫ আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী,
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮ জয়ী
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। চট্টগ্রাম-৩ আসনে (সন্দীপ উপজেলা) বেসরকারি ফলাফলে ৭১ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। সুনামগঞ্জ - ৫ আসনে (ছাতক-দোয়ারাবাজার ) বিএনপি প্রার্থী প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মো. নুরুল হক বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল আলম বিজয়ী হয়েছেন। কুমিল্লা –৩ কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসাইন (বিএনপি), সুনামগঞ্জ-২ নাছির চৌধুরী (বিএনপি), বরগুনা-২ নুরুল ইসলাম মনি (বিএনপি) বেসরকারী ভাবে জয়ী হয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৩৮ প্রার্থীকে বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, ১. মোঃ শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২) ২. মোঃ নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) ৩. মোঃ আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩) ৪. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১) ৫. শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫) ৬. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৬) ৭. মোঃ আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) ৮. মোঃ গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫) ৯. মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১) ১০. এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২)১১. শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) (বাগেরহাট-২) ১২. মোঃ আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬) ১৩. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (মৌলভীবাজার-১) ১৪. মোঃ সাইফুল আলম (ঢাকা-১২) ১৫. মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১) ১৬. মোঃ আব্দুল গফুর (কুষ্টিয়া-২) ১৭. মোঃ তাজউদ্দীন খান (মেহেরপুর-১) ১৮. মোঃ নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২) ১৯. মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১) ২০. মোঃ মাহবুবুর রহমান (বেলাল) (রংপুর-৩) ২১. মোঃ রায়হান সিরাজী (রংপুর-১) ২২. আখতার হোসেন (রংপুর-৪) ২৩. মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১) ২৪. মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২) ২৫. হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩) ২৬. মোঃ রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪) ২৭. মোঃ আব্দুস সাত্তার (নীলফামারী-১) ২৮. আলফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২) ২৯. ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩) ৩০. আব্দুল মুনতাকিম (নীলফামারী-৪) ৩১. মোঃ মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১) ৩২. মোঃ আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২) ৩৩. আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩) ৩৪. মোঃ আব্দুর রহিম সরকার (গাইবান্ধা-৪) ৩৫. মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫) ৩৬. মোঃ মাসুদ পারভেজ (চুয়াডাঙ্গা-১) ৩৭. মোঃ রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২) ৩৮. মোঃ আফজাল হোসেন (কুষ্টিয়া-৪)
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে এগিয়ে আছেন। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে এগিয়ে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নায়েবে আমির। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর থেকে নিশ্চিত বিজয়ের পথে রয়েছেন। চাপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা নিশ্চিত বিজয়ের পথে। ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের মামুনুল হক ও বিএনপির ববি হাজ্জাজে মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ঢাকা-১৪ আসনে এগিয়ে আছেন জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান।
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাও-১ আসনে এগিয়ে আছেন। ভোলা-১ আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন বিএনপি জোটের আন্দালিব রহমান পার্থ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপি জোটের জোনায়েদ সাকি বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া কাছাকাছি রয়েছেন। সিলেট-২ আসনে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন। এছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাসের সঙ্গে জামায়াত জোটের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
এদিকে কুষ্টিয়ার দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী ঘোষনার পথে। কুষ্টিয়া সংবাদদাতা খালিদ হাসান সিপাই জানিয়েছেন, কুষ্টিয়ার দুটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী দ্বিগুন ভোটে এগিয়ে আছে। কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের ১৩ টি ইউনিয়নে বেশির ভাগ কেন্দ্রে তিন ভাগের দুই ভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষনার পথে জামায়াতের প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার তিন ভাগের এক ভাগ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে কুষ্টিয়া -২ মিরপুর ভেড়ামারা আসনে বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল গফুর। এ আসনে ৭৬ কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা-৮৮ হাজার ৬শত ৭ ভোট ও ধানের শীষ-৬৩ হাজার ৩ শত ৪৫ ভোট পেয়েছেন। কুষ্টিয়া-১ জামায়াতের দাড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক বেলাল হুসাইন ও ধানের শীষের প্রার্থী প্রায় সমানতালে এগিয়ে আছে। সর্বশেষ কেন্দ্র গুলোর ফলাফল আসলেই বিজয়ী ঘোষনা হবে। এছাড়াও কুষ্টিয়া-৪ খোকসা কুমারখালী আসনে জামায়াতের দাড়িপাল্লার প্রাথী আফজাল হুসাইন ও ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী সমান তালে রয়েছেন।