২০২৫ সাল দেশের অর্থনীতির জন্য এক জটিল ও দ্বিধাবিভক্ত বছর। পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের ক্ষত, বৈশ্বিক মন্দার রেশ, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে দীর্ঘায়িত রাজনৈতিক স্থবিরতা সব মিলিয়ে সম্মিলিত অভিঘাতে বছরজুড়ে অর্থনীতি এগিয়েছে অনেকটা টালমাটাল পথ ধরে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টায় উৎপাদন, বিনিয়োগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান-প্রায় সবখাতে এর প্রতিফলন দেখা গেছে।

সদ্য বিদায়ী বছরটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ছিল টালমাটাল। এক কথায় বাস্তবতার এক কঠিন অধ্যায়। বছরজুড়ে কোথাও ছিল আশার আলো, আবার কোথাও গভীর শঙ্কা। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গেল বছরটি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার চেয়ে বেশি ছিল টিকে থাকার লড়াইয়ে। বছরের শুরুতেই অর্থনীতি চাপে পড়ে। ২০২৪ শেষ দিকের রাজনৈতিক টানাপড়েন ও সহিংসতার রেশ গেলো জানুয়ারিতেও অব্যাহত থাকে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয় পুরো বছর। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও, ব্যাংকিং খাতের ভেতরে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং নি¤œমুখী প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়।

পাহাড়সম খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জে ব্যাংক খাত

বিদায়ী বছর দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ছিল বড় ধরনের সংস্কারের বছর। বিগত সরকারের সময় লুটপাটের শিকার পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পরিবর্তন করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বছর শেষেও এসব ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকেরা তাদের আমানত পুরোপুরি ফেরত পাননি। পাহাড়সম খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের বিশাল চ্যালেঞ্জ এখনো ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের অর্থনীতির মেরুদ- ব্যাংক খাত। তবে গেল দেড় দশকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ এবং একশ্রেণির সুবিধাভোগীদের ব্যাংক দখলের কারণে এ খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বছরের পর বছর ঋণ পুননির্ধারণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল নজরদারির খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ আমানতকারীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামগ্রিক অর্থনীতি। বিদায়ী বছরে কঠোর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে ওঠেনি।

বছরের শুরুতে বড় আঘাত আসে বিনিয়োগ খাতে

বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে বিনিয়োগ খাতে। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্পে যেতে দ্বিধাগ্রস্ত হন। ব্যাংকঋণ বিতরণ কমে যায়, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি শিল্পঋণে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ নীতি গ্রহণ করেন। কয়েকটি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তি স্থগিত বা বিলম্বিত হয়। ব্যবসায়ীদের বড় অভিযোগ ছিল- পরিবহন খাত ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছায়নি, পণ্য সরবরাহে দেরি হওয়ায় চুক্তি রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ে, বীমা ও লজিস্টিক ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতিতে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বছরের প্রথম তিন মাসেই সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির অন্তত ০.৫-০.৭ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়ে যায়। এছাড়া আমদানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি থাকায় শিল্পের কাঁচামাল আমদানি সংকুচিত হয়, যার প্রভাব পড়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে।

পুঁিজবাজারে হতাশা পিছু ছাড়েনি

২০২৫ সালে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিজে মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। তারা বাজার বিশ্লেষণ করে ঠিক পদক্ষেপও নেয়নি। আস্থার সংকটে ভালো শেয়ারেরও তাই দর কমছে। সরকার পতন, নতুন সরকার গঠন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় পুঁজিবাজারে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে ছিল।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে বর্তমান কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ায় নতুন করে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে না। আগের বিনিয়োগকারীরাও ভয়ে সরে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। পুরো বছরজুড়ে বাজারে নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ প্রায় বন্ধ ছিল। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন অর্থ আসেনি। তারল্য সংকট কাটেনি একবারের জন্যও। বছরের শেষ পর্যায়ে এসেও বাজারে গতি ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন জমা পড়েনি। এই সময়ের মধ্যে নতুন আবেদন এলেও যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল না । অথচ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮০ শতাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। এই বিশাল অংশ নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বাজারে স্বাভাবিক গতি ফেরানো সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে আইপিও তো আসেইনি, এমনকি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের কোনো কোম্পানিও কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে পুরো বছরজুড়ে নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি। একইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানির জন্যও বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ছিল সীমিত। কারণ, চলতি বছরে করপোরেট বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন ছিল খুবই কম।

বাজেট বাস্তবায়বায়নের দুর্বল দিক

বাজেট বাস্তবায়ন ছিল ২০২৫ এর আরেক দুর্বল দিক। উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশই বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে খরচ হয়েছে, যা কাঙ্ক্ষিত গুণগত উন্নয়ন আনতে ব্যর্থ। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, ফলে ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর আরও নির্ভর করতে হয়েছে। এতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। তবে বছরটির শেষ দিকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেখা যায়। ব্যবসায় আস্থার সামান্য উন্নতি ঘটে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হয়, সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ডিজিটাল অর্থনীতি, আইটি সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। সার্বিকভাবে ২০২৫ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ছিল সংকটময়, কিন্তু পুরোপুরি হতাশার নয়। এটি ছিল বাস্তবতা বুঝে নেওয়ার, ভুলগুলো চিহ্নিত করার এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের ভিত্তি তৈরির সময়। অর্থনীতি এই বছর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তবে একেবারে ভেঙেও পড়েনি।

রিজার্ভে অস্থিরতা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৫ সালে একাধিক পর্যায়ে ওঠানামা করেছে। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ এক সময়ের ২০.১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে সর্বশেষ পর্যায়ে এটি প্রায় ৩১-৩২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই রিজার্ভের বড় অংশ স্বল্পমেয়াদি আমদানি দায়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজারে হস্তক্ষেপের ফল। ফলে কাগজে-কলমে রিজার্ভ বাড়লেও, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ বাস্তবে অনেক কম।

প্রবাসীদের আয় ছিল অর্থনীতির প্রধান ভরসা

২০২৫-এ প্রবাসী আয় ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৮৩ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের ৫ মাসে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী সূচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, চলতি বছর ডিসেম্বরের আঠাশ দিনে রেমিটেন্স প্রবাহ ২১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৯৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর একই সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ ছিল ২,৪২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ১৫,৯৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে, গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩,৫৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা আমদানি-রফতানি

২০২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুসারে এ সময়ে আমদানি ব্যয় হয় (সিএন্ডএফ) : ৬৮.৩৫ বিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধি ২.৪৪%) আর রফতানি আয় হয় (এফওবি) : ৪৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধি ৭.৭২%)। ২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি ব্যয় হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৫ শতাংশ বেশি। অন্য দিকে একই সময়ে রফতানি আয় হয় সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার যাতে প্রবৃদ্ধি হয় ২ শতাংশের কাছাকাছি। এতে অক্টোবর শেষে চলতি হিসাবে লেনদেনে ভারসাম্য হয় ইতিবাচক ১২ বিলিয়ন ডলারের মতো, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেশি। রফতানি কিছুটা বাড়লেও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেনি। বিশেষ করে জ্বালানি, শিল্প কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য। এই খাতগুলো আমদানির বড় অংশ দখল করে আছে। ফলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্সে চাপ অব্যাহত।

বিবিধ

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় শত্রু। দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, কর্মসূচি, অবরোধ কিংবা ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, তখন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যায়। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে নতুন শিল্প স্থাপন বা বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে চাননি বলে নতুন বিনিয়োগ বাড়েনি, ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়েনি।

রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায়। শঙ্কা ও আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছায় না, কৃষিপণ্য বাজারে আসতে দেরি হয়। এর ফল ভোগ করে সাধারণ মানুষ- পণ্যের দাম বাড়ে, মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়। ২০২৫ সালে খাদ্যপণ্যের দামে যে চাপ ছিল, তার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভূমিকা স্পষ্ট।

রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব গভীর। অস্থির পরিবেশে রাজস্ব আদায় কমে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির থাকায় কর আদায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। সরকার তখন ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, যা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করে এবং মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়।

দীর্ঘ অস্থিরতা, সংকট ও অনিশ্চয়তার পর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তাকিয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই- স্বস্তির অর্থনীতি। ২০২৫ সাল আমাদের শিখিয়েছে, কেবল প্রবৃদ্ধির সংখ্যা দিয়ে অর্থনীতির শক্তি মাপা যায় না; দরকার স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার ও মানুষের জীবনে বাস্তব স্বস্তি। তাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আমরা এমন একটি অর্থনীতি চাই, যা কাগজে নয়- বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।