সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজের ওপর পুলিশি হামলা, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন।
গতকাল সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড.এম কোরবান আলী ও জেনারেল সেক্রেটারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম বলেন, শিক্ষক সমাজ কোনো অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করেনি। তাঁরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু তাঁদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারের মাধ্যমে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা একটি সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়। এতে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন- যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজের সঙ্গে সহনশীল ও আলোচনাভিত্তিক আচরণ করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষকদের দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে যৌক্তিকভাবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক সমাজ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। অচিরেই বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে- এমন সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, শিক্ষকদের ওপর দমননীতি পরিহার করে অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন করা এবং শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। একই সাথে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আমরা শিক্ষাবান্ধব সব মহলকে একযোগে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।