জুলাই-আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অপর আসামী সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অগ্রগতি নিয়ে জানান তিনি। এ সময় পলাতক আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চান। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির অনুমতিসহ পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ সময় পলকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। তিনি বলেন, সপ্তাহে একদিন পলককে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দিচ্ছেন না জেল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ১৫ দিনে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এজন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান এই আইনজীবী।

এর আগে, ৪ ডিসেম্বর এই দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

গতকাল সকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। জয়ের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব থাকুক বা না থাকুক, তিনি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত ছিলেন, উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, জয়ের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতাতেই হবে। তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে গতকাল বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও শিল্পগোষ্ঠীপ্রধান সালমান এফ রহমান। বুধবার তারা যুক্তরাজ্য থেকে দুজন আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তবে তা আইনসম্মত শর্তপূরণ সাপেক্ষে।

তাজুল ইসলাম আরও জানান, জুলাইয়ের হত্যাযজ্ঞের মামলায় বুধবার আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৭ ডিসেম্বর।

এদিন ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞে সহায়তা এবং লাশ ও আলামত গুমের মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে হাজির করা হয়। তবে হাজির না থাকায় হাসিনাপুত্র জয়কে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বুধবার আরও দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪ জন।