মুহাম্মদ নূরুল হুদা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শাহাদাতবরণ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপারেশন রোরিং লায়ন এর প্রথম দফা হামলায় এক মিনিটেরন মধ্যে ৪০ জন শীর্ষ ইরানী সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করার কথা দাবি করেছে আইডিএফ। ইরানের প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় কঠোর হামলা চালানো হবে। হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট খামেনির হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতির লঙ¦ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাসনিম, ফার্স নিউজ এজেন্সি, নিউইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা, ডন, স্পূরনিক, এএফপি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (১ মার্চ) ইরানের বার্তা সংস্থা বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬)। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করেন। বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি তৈরি করা হয় এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপরে একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়। ৮৮ সদস্যের আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতা নির্বাচন করে। খামেনির ক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নিরাপত্তা কাঠামোর আনুগত্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করে রেখেছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টার কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি। তবে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন দাবি করে আসছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা অতীতে খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হতে পারে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছিলেন, ‘খামেনি এভাবে টিকে থাকতে পারেন না।’

তার ভাষায়, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরাইল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার খামেনিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, ইরানের জনগণ চাইলে সরকার পরিবর্তন সম্ভব এবং সেটিই ‘সেরা পরিণতি’ হতে পারে। অতীতে তিনি খামেনিকে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। কৌশলগতভাবে শীর্ষ নেতৃত্বকে বিচ্ছিন্ন বা অকার্যকর করা গেলে রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এক মিনিটে খামেনিসহ ৪০ শীর্ষ ইরানী কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটে

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম দফার হামলায় এক মিনিটের মধ্যে ৪০ জন শীর্ষ ইরানী সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গতকাল রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে হামলাকে তারা ইরানের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের শুরুতেই তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে বিমান হামলা চালানো হয়। ওই সময় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা নেতৃত্বের সাতজন সদস্য একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিতভাবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পরবর্তীতে আইডিএফ নিশ্চিত করে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল আব্দুলরহিম মোসাভি নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।

ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ যে শনিবার সকালে তেহরানের একটি সরকারি কমপাউন্ডে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, সে তথ্য আগেই জেনে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

যুক্তরাষ্ট্র ওই তথ্য দেয় ইসরাইলকে। এর ভিত্তিতে ইসরাইল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই আঘাত হানে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা সেই হামলায় নিহত হন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইসরাইলি জঙ্গিবিমান খামেনির কমপাউন্ডে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। তাতে ওই কমপাউন্ড পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

অভিযান শুরু হয় ইসরাইল সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ জঙ্গিবিমান ওড়ার দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর কমপাউন্ডে আঘাত হানে বোমা।

ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চলবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হমলা চলবে।

গহতকাল রোববার টেলিভশনে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবো।’ তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে, শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাত ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলে ৮ জন নিহত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের বেইত শেমেশ এলাকায় অন্তত ৮ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে। ইসরাইলী সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরাইলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা হতাহতদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে চিকিৎসক দল রয়েছে, হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার তৎপর রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তুর’ আঘাতে আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জাহাজ ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তুর’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি জানায়, ওমানের উত্তরে এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে অবস্থিত একটি জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত ইউকেএমটিও-র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও, বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।’ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

হরমুজ প্রণালির ওমান সংলগ্ন কুমজারের অদূরে একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, আজ এটি ইউকেএমটিওর পাওয়া দ্বিতীয় ঘটনা।

হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বহু জাহাজ আটকা পড়েছে

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত দেওয়া সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে।

প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলী হামলার পর এই অঞ্চলটি যুদ্ধের কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী এবং এলএনজি উৎপাদনকারী বড় দেশ কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ট্যাঙ্কারগুলো রয়েছে।

যেভাবে খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল। অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তার আগে সিআইএ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পায়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ওপর নজর রেখেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করে তারা।

প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইএর কাছে তথ্য আসে যে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খামেনিও। এমন তথ্য সিআইএর হাতে আসার পর হামলার সময় পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর জন্যই হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়। কারণ তারা বলে আসছিল যে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনই তাদের লক্ষ্য। তারা মনে করে, প্রাপ্ত তথ্যের ফলে দ্রুত বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানায়, খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলকে ‘খুবই নির্ভুল’ তথ্য দেয় সিআইএ। তবে সংবেদনশীল সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা। মার্কিন গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রথমে রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শনিবার সকালে ওই কমপ্লেক্সে বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল এমন এক কমপ্লেক্সে, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে। মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল, বৈঠকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি, উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ইসরাইলের সময় অনুসারে ভোর ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। তখন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানসংখ্যা কম হলেও সেগুলোতে ছিল দীর্ঘ পাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় কমপ্লেক্সের একটি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। খামেনি ছিলেন পাশের আরেকটি ভবনে।

সিআইএর প্রাপ্ত তথ্য সঠিক এবং সে অনুযায়ী ইসরাইল ও মার্কিন বাহিনীর হামলা যে নিখুঁত ছিল সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। হামলার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের দাবির ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছিল না। ইরানের পক্ষ থেকেও একাধিকবার বলা হয়, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তীতে তেহরান খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার শাহাদাতের কথা স্বীকার করে।

খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলী সামরিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণার পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার তেহরানের রেভল্যুশন স্কয়ার ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী ছাড়াও ইরানের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমে এসেছে বিপুলসংখ্যক জনতা। ইরানের পতাকা হাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন তারা। পবিত্র শহর কোমে, শত শত মানুষ হামলার নিন্দা জানাতে হযরত মাসুমের মাজারে জড়ো হয়েছে। মাশাদের ইমাম রেজার প্রাসাদের পতাকা শোকের রঙ্গে আচ্ছাদিত করা হয়েছে। ইরানের কিছু শহর ছাড়াও ইরাকের বাগদাদ ও কারবালা এবং কাশ্মীরে লোকজন জমায়েত হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুতে যে প্রতিক্রিয়া হামাসের

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি জঘন্য হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ফিলিস্তিনী জনগণের সংগ্রাম, তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধিকার এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে খামেনির সর্বাত্মক ও বহুমুখী সামরিক সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে গোষ্ঠীটি।

হামাস তাদের বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই নগ্ন আগ্রাসনের জন্য দায়ী করেছে। তারা বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর এই জঘন্য অপরাধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার যে চরম অবনতি ঘটবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার এই দুই দেশকেই নিতে হবে। এই হামলার সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কেও তারা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। একই সঙ্গে হামাস আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি এক জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি মনে করে, ইরানের ওপর এই হামলার প্রেক্ষিতে অবিলম্বে এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একটি রাজনৈতিক, আইনি এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতিতে চুপ না থেকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য তারা মুসলিম উম্মাহর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরান পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গতকাল শত্রুপক্ষের হামলায় জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন।’

ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে হামলা আহত ৪

ওমান উপকূলে স্কাইলাইট নামের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, দেশটির মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউয়ের পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। হামলায় জাহাজের চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রুর সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার ধরন বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার কিছু সময় আগেই ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির দুকুম বন্দরে দুটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ড্রোন হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন।

করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে বিক্ষোভ সংঘর্ষে নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত কনস্যুলেট এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো একাধিক প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।

উদ্ধারকারী সংস্থা এডি-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে। করাচি সিভিল হাসপাতালের (সিএইচকে) পুলিশ সার্জন ড. সুমাইয়া সৈয়দ জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে ছয়টি লাশ আনা হয়েছে। এডি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ ও আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার এই পরিস্থিতির বিষয়ে করাচির অতিরিক্ত আইজিপি আজাদ খানের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তলব করেছেন। এক বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। তিনি সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে মাই কোলাচি রোডের উভয় পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করাচি ট্রাফিক পুলিশ সুলতানাবাদ ট্রাফিক সেকশন থেকে যান চলাচল বন্ধ করে বিকল্প রুট ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। জিন্নাহ ব্রিজ, আইআই চুন্দ্রিগড় রোড এবং বোট বেসিন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি এড়াতে ট্রাফিক হেল্পলাইন ১৯১৫-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ইরানকে বিভক্ত করতে চায় ইসরাইল: লারিজানি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর এবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, ইসরাইল এই দেশটিকে ‘বিভক্ত করতে চাইছে’। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ইসরাইলি শাসনের টিকে থাকার আর কোনও পথ নেই, তাই তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় বড় দেশগুলোকে বিভক্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে লারিজানি তাকে ‘লুটতরাজের প্রকৃত প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প ইরানের সম্পদ দখল করার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লারিজানি বলেন, আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসন ইরানি জাতির হৃদয় পুড়িয়েছে, আমরাও তাদের হৃদয় পুড়িয়ে দেব।

ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলী বোমাবর্ষণের পাল্টা জবাবে ষষ্ঠ দফার হামলা শুরু করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের তেল নোফ বিমান ঘাঁটি, তেল আবিবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কমান্ড সদর দফতর হাকিরিয়া এবং একই শহরের একটি বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতেও আক্রমণ করেছে ইরান। আইআরজিসি আরও বলেছে, ইরানি বাহিনী এক ভিন্নধর্মী ও কঠোর প্রতিশোধের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

কাঁদতে কাঁদতে খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন ইরানী টিভি উপস্থাপক

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের একজন উপস্থাপক কাঁদতে কাঁদতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। ফারসি ভাষায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া এ–সংক্রান্ত একটি বিবৃতি পড়ে শোনান তিনি। বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে ইসলামী চিন্তাচেতনা হেফাজতের ক্ষেত্রে পাহাড়ের মতোই অটল, আধ্যাত্মিক চেতনার, সহৃদয়, দৃঢ় নীতির অভিভাবক, মুসলিমদের নেতা ও ইমাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হোসেইনি খামেনি সারা জীবন অবিরাম ও অক্লান্তভাবে সংগ্রামের পথে থেকে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মর্যাদা অটুট রেখে শাহাদাত বরণ করেছেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, খামেনি এদিন ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় শাহাদাত বরণ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় কাউন্সিলের বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ রোববার থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকেও হত্যা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রোববার ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।

খবর অনুযায়ী, আহমেদিনেজাদ তার নিজ বাসভবনে হামলার শিকার হন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রচার করে একে ইরানের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত চলমান হামলার একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কট্টরপন্থী বক্তব্যের জন্য পরিচিত এই নেতা পশ্চিমাদের প্রতি আপোষহীন অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক নজরদারিতে ছিলেন।

২০০৯ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কিত এবং এর পর ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া গণবিক্ষোভও তার প্রেসিডেন্সি আমলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল।