স্কুলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বাড়ছে, প্রকৃত শিখনফল কমছে এবং কোচিং ও গাইড বইয়ের পেছনে পরিবারের খরচ বাড়ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণা দলে ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যরা। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৌফিকুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ, এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রুবাইয়া মোরশেদ, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সাঈদ রাশেদ আল জায়েদ যশ, মুনিয়া ইসলাম মজুমদার, সমীর রঞ্জন নাথ, নাদিয়া রশিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

গবেষণায় বলা হয়, সরকারি বয়ানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তির সাফল্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা থমকে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ছেলেদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিট ভর্তির হার এক বছরে ৭ শতাংশ কমে ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় পতন।

প্রাথমিক গ-ি পেরিয়ে মাধ্যমিকে ওঠার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার হার ২০১৯ সালের ৯৬.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২২ সালে প্রায় ৭৫ শতাংশে নেমেছে। অর্থনৈতিক চাপে শিশুশ্রমের হার ২০১৯ সালের ৬.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারির আগে থেকেই শিক্ষার মান কমছিল। ২০২২ সালের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নে (এনএসএ) দেখা যায়, বাংলা ও গণিতে শিক্ষার্থীদের গড় নম্বর ২০১৩ সালের চেয়েও নিচে। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে। সনদনির্ভর এই শিক্ষার কারণে উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে।