জুলাইয়ের রক্তের ওপর নির্মিত সংসদে রাষ্ট্রপতির পদে শেখ হাসিনার ‘সেবাদাস’ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ব্যারিস্টার মীর আহমেদ আলী কাসেম আরমান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর শাহআলী মাজার মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর মাজারের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মাজার ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। এ সময় আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, জুলাইয়ের রক্তের ওপর নির্মিত সংসদে কোনো ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না। শেখ হাসিনার ‘সেবাদাস’ হিসেবে যিনি রাষ্ট্রপতির পদে আছেন, তার সংসদে অবস্থান থাকতে পারে না। বিএনপির মধ্যে অনেক ত্যাগী ও সর্বজনস্বীকৃত শ্রদ্ধেয় নেতা আছেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া সংসদে রাষ্ট্রপতির গত অধিবেশনের ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে ওয়াকআট করা হয়েছে। তবে আগামীতে আলোচনার সময় সংসদে উপস্থিত থেকে জোরালো ও শক্ত সমালোচনা করবো।
ব্যারিস্টার আরমান আরও বলেন, নতুন সংসদের প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্য বয়সে তরুণ এবং জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। তরুণদের এই উপস্থিতি সংসদে নতুনত্ব এনেছে এবং সামনে আরও অনেক চমক দেখা যাবে। বর্তমান রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, আত্মমর্যাদাবোধ থাকলে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় তাকে অপমানের সঙ্গে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক মেডিকেল এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলে ব্যারিস্টার আরমান : গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হলো ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের সম্মানে বাংলাদেশ ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক মেডিকেল এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানেক এবং ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) এর ঢাকা মহানগরী উত্তরের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য জনাব মোখলেসুর রহমান। এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. তাওহিদ আল বেরুণীর সভাপতিত্বে ও ডা. মঈন উদ্দিনের সঞ্চালনায় এ ইফতার অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. এ.এইচ.এম. মঈনুদ্দিন আহমেদ জিলানী, ডা. মকবুল হোসেন মিন্টু, ডা. হাসান আল বান্না প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, তাকওয়াভিত্তিক সমাজ ছাড়া মানুষের সংশোধন কিংবা পৃথিবীতেও প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভালো মানুষ হতে হলে একজন মুত্তাকি হতে হবে। দুনিয়াকে বাদ দিয়ে আখিরাতের মুক্তি সম্ভব নয়।
পৃথিবীকে গড়তে হলে আখিরাতের জীবনকে সামনে রাখতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলেও তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ প্রয়োজন। প্রধান অতিথি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি নির্বাচনের জন্য হয়নি, এটি সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক প্রচন্ড দ্রোহের নাম। আমরা জান দিব জুলাই দিব না, ইনশাআল্লাহ।
প্রধান অতিথি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের হয়রানী বন্ধে স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন করতে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক আইন পাশ এবং রাজস্বখাতে চাকুরী বাস্তবায়ন সহ ইউনানী আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের উথ্যাপিত যৌক্তিক দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।