অনুমোদনহীন মোবাইল ফোন বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দিনভর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এই ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে সড়ক আটকে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। দিন শেষে রাতের শুরুতেও ছিল অবরোধ, ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা। এতে দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ের অদূরে তিনটি প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতালে (শিশু, পঙ্গু ও নিউরোসায়েন্সেস) রোগীদের ঢুকতে-বের হতে বেগ পেতে হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে পর্যন্ত অন্তত চার জায়গায় আগুন জ্বালায় বিক্ষোভকারীরা। সোয়া ৭টার দিকে রাস্তার এক পাশ ছেড়ে দেন ব্যবসায়ীরা। তবে গতকাল রাত ৮ টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিটিআরসির সামনের সড়কে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

এর আগে বিকাল ৫টায় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সামনের অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় সুত্র জানায়, যানজটে থমকে ছিল সড়ক। হাসপাতালের দরজায় দাঁড়িয়ে সমানে সাইরেন বাজিয়ে চললেও বের হতে পারল না একটি অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বললেন, রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার কথা ছিল। যানজটের কারণে নেওয়া গেল না।

স্কুল শিক্ষক হোসনে আরা ফিরছিলেন সিএনজি চালিত অটোরিকশায়। যানজটে অনেকক্ষণ অটোরিকশায় বসেছিলেন তিনি। পরে বের হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। হোসনে আরা বললেন, হাঁটুতে সমস্যা থাকায় তিনি ভালো করে হাঁটতে পারেন না। বাসা থেকে ছেলেকে আসতে বলেছেন। ছেলে আসছে; তিনিও যতখানি পারেন- সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।

পাসপোর্ট অফিসের উল্টো পাশের মোড়ে ৫০-৬০ জন বিক্ষোভকারী সড়কটি অবরোধ করে রেখেছেন। আর তাদের পেছনে কয়েকশো গাড়ি আর মোটরসাইকেল। বাইকাররা মাঝে মাঝেই উত্তেজিত হয়ে একযোগে হর্ন বাজাচ্ছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সড়ক ছাড়ছেন না।

বিটিআরসি ভবনের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছে সেনা সদস্যরা; আছে পুলিশও। বিটিআরসি ভবনের পাশে খাবারের দোকানগুলোতে ভিড় করে খাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার দুইপাশে আরও বেশি করে ভিড় করছেন ভাসমান খাবার বিক্রেতারা।

তেলের লরি চালক মিরাজ বলছেন, বিকাল বেলায় গাবতলী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ৩ ঘণ্টা থেকে এখানেই আটকে আছেন। মোটরসাইকেলগুলো ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে পারলেও তিনি যেতে পারছেন না। তার হেল্পার সিয়াম অনেকক্ষণ আগে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে এসেছে। তখন তারা জানিয়েছিল বিকাল ৫টার সময় আন্দোলন শেষ হবে। কিন্তু সাড়ে ৫টার সময়ও তারা রাস্তা ছেড়ে দেয়নি।

বিভিন্ন যানবাহনের চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা এসে আন্দোলনকারীদের গালিগালাজ করছেন। জবাবে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে বার বার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় না জড়ানোর জন্য। তাদের নেতাগোছের একজন হ্যান্ড মাইক হাতে বলছিলেন, আমরা কিচ্ছু দেখি না। আমরা কিচ্ছু শুনি না। যে যাই বলে বলুক, আপনারা কারো সাথে হাতাহাতি করবেন না।

অননুমোদিত মোবাইল ফোন বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনের সামনে সড়ক আটকে সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ব্যানারে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সড়ক বন্ধ করে অবস্থান নিলে একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে আগারগাঁও এলাকার সব সড়ক বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা। তাতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে আগারগাঁও ও আশপাশের এলাকা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এনইআইআর প্রক্রিয়ার কিছু সংস্কার, ন্যায্য করনীতি প্রণয়ন, একচেটিয়া সিন্ডিকেট বিলোপ এবং মুক্ত বাণিজ্যের স্বার্থে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তাদের কিছু দাবি ও প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কথা না শুনেই সরকার একতরফা এনইআইআর চালু করতে যাচ্ছে।