বিশ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলায় দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রোববার আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন আবেদন করলে তা নাকচ করে দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মাহবুবুর রহমান।

গত ১২ নভেম্বর রাজিবুল ইসলাম নামে এক ঠিকাদার শামসুল হক দুররানীকে আসামী করে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গতকাল রোববার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শামসুল হক দুররানী। তার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

আইনজীবী খোরশেদ মিয়া আলম বলেন, শুনানি নিয়ে আদালত আসামীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আদেশের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নওরোজ সম্পাদক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, হেরোইন পাচার মামলায় জামিন দেওয়া নিয়ে একজন বিচারকের বিরুদ্ধে দৈনিক নওরোজে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ওই বিচারক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা মিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছেন। দুররানী বলেন, বিচারকরা অন্যায় করলে কি নিউজ করা যাবে না, কিছু লেখা যাবে না। তারাই মামলা করিয়েছেন, কীভাবে বুঝলেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা পুলিশ আমাকে বলেছে, তার নাম আমি বলব না।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জামালপুরের মেলান্দহে উপজেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসে এক কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩২ টাকার ঠিকাদারি কাজ করছেন রাজিবুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে কিছু অচেনা ব্যক্তি কাজে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে গত ৭ নভেম্বর বিকালে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে সাক্ষাৎ করতে বলেন। ওই ব্যক্তি জামালপুরের সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন।

এজাহারে বলা হয়, রাজিবুল ঢাকা থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ডে ৭টায় পৌঁছান; সেখানে তাদের দেখা হয়। তখন জামালপুরের ঝামেলা মেটাতে ২০ লাখ টাকা চান দুররানী। টাকা না দিলে কাজ করতে পারবে না বলে হুমকি দেন।