পৌষের শেষ প্রান্তে এসে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জবুথবু অবস্থা মানুষের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটেখাওয়া মানুষ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সারাদেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও জোরালো হতে পারে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দেশের একাধিক অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়াবে। এদিন রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে পারে। সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশের ওপর দিয়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
গতকাল মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কমে আসায় ব্যাপক দুর্ভোগে নিন্ম আয়ের মানুষ। শীত নিবারণ করতে গরম কাপড় না থাকায় হিমশিম খাচ্ছে। পথেঘাটে অনেকে আগুন ধরিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়। শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকেই বের হতে পারছে না, ফলে রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি দেখা যায়নি। হাটবাজারে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, সোমবার রাত থেকেই তাপমাত্রা ধাপে ধাপে কমতে শুরু করতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে অন্তত এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এবিষয়ে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন বিভাগে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ওই দিন সন্ধ্যার পর থেকে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন জেলা মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ জেলায় দুপুর ১২টার আগে সূর্যের দেখা মিলতে না-ও পারে। তবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার পর সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সকালে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়তে পারে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এদিকে হঠাৎ শীতের প্রকোপে অসচ্ছল, দরিদ্র ও কর্মজীবী মানুষরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাব এবং কনকনে ঠাণ্ডায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।