লেবাননে ইসরাইলী হামলায় বাংলাদেশী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইসরাইলী হামলায় লেবাননে বাংলাদেশী এক নারীর মৃত্যুর নিন্দা ও গভীর শোক জানিয়েছে ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাস। গতকাল শনিবার ঢাকার ফিলিস্তিন দূতাবাস দীপালি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।
গত বুধবার লেবাননে ইসরাইলী হামলায় দিপালী বেগম নামে বাংলাদেশী এক নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে এ নিয়ে অষ্টম বাংলাদেশীর মৃত্যুর খবর এল। তার মধ্যে লেবাননে এই প্রথম বাংলাদেশী কেউ নিহত হলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ দিপালী বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের অভাব ঘোচাতে দুই বছর আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিপালী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরাইলী হামলার নিন্দা জানায়, যে হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও আহত হয়েছে। যা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য চলমান প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ‘বৈরুতে ইসরাইলী হামলায় দিপালী বেগমের মর্মান্তিক মৃত্যুরও নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সরকার তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস দিপালীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তার মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
‘ রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ দিপালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে দেড় লাখের মতো বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁর অর্ধেকের বেশিই নারী।
লেবাননে ইসরাইলী হামলায় বাংলাদেশী নারী শ্রমিক নিহত: লাইজু বেগম নিহত দিপালীর বোন বলেছিল, টায়ার এলাকায় যুদ্ধের প্রকোপ বেশি, তাই তারা বৈরুত যাচ্ছে। সেখানেই যে তার মৃত্যু হবে, তা ভাবিনি।’
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈরুতের হামরা এলাকায় দিপালীর নিয়োগকর্তার (কফিল) বাড়িতে ইসরাইলী বাহিনী বিমান হামলা চালায়। এ সময় ভবনটি ধসে পড়ে। তাতে দিপালী নিহত হন। দিপালীর নিয়োগকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হন এই হামলায়। দিপালী বেগমের লাশ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইসরাইলী হামলায় বাংলাদেশী নারীর মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের নিন্দা ও শোক: ফিলিস্তিন দূতাবাস বলছে, এসব হামলার ফলে নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এই ক্ষতিতে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এই অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।