নরসিংদীর সাম্প্রতিক ধর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। দেশে ভিন্নমত দমনের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার বিচার দাবিতে ডাকসু আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাদিক কায়েম এসব বলেন। বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন।
সাদিক কায়েম বলেন, দেশে সম্প্রতি ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষ যে নিরাপদ পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামোর আশা করা হয়েছিল, যেখানে গুম, খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ থাকবে না। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সারাদেশে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছে। সমাবেশ থেকে ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবি জানানো হয়।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, নরসিংদীর ঘটনায় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কয়েক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক গুরুতর ঘটনা গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় কঠোর অবস্থান না নিলে ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, নারীর নিরাপত্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয় হয়ে দাঁড়ালেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও তথ্যপ্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল না থাকে।
বক্তারা ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার দ্রুত বিচার এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।